নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রিয় বাংলাদেশ #শীর্ষ-১ #সৌদি আরব

ভিশন ২০৩০ ও আকামা সংকট: সৌদি আরবভিত্তিক প্রবাসীদের দিনলিপি

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। সরকারি হিসেবে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ বাংলাদেশি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পবিত্র মক্কা-মদীনার দেশ হিসেবে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি জীবিকার সন্ধানে দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশিরা এখানে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবাসীদের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

পরিবর্তিত শ্রমনীতি ও ধরপাকড় সৌদি সরকার তাদের অর্থনীতিকে আধুনিকায়ন করতে এবং নিজ দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কঠোর ‘সৌদিকরণ’ (Nitaqat) নীতি গ্রহণ করেছে। মোবাইল শপ, শপিং মল, রিসিপশন এবং কাঁচাবাজারের মতো ১২টি সেক্টরে প্রবাসীদের কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা বা চাকরি হারিয়েছেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান। আকামা (রেসিডেন্সি পারমিট) মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে বা কফিলের (নিয়োগকর্তা) অবহেলার কারণে অনেকেই অবৈধ হয়ে পড়ছেন এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

আকামা ফি ও ফ্যামিলি ট্যাক্স গত কয়েক বছরে সৌদি আরবে আকামা নবায়ন ফি কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। একজন সাধারণ শ্রমিকের বেতনের বড় একটা অংশ চলে যায় এই আকামা ফি এবং লেভি পরিশোধ করতে। এছাড়া যারা পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে থাকতেন, তাদের ওপর উচ্চ হারে ‘ফ্যামিলি ট্যাক্স’ আরোপ করায় অনেকেই স্ত্রী-সন্তানদের দেশে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে প্রবাসীদের মানসিক প্রশান্তি কমেছে এবং একাকীত্ব বেড়েছে।

নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা এত সব কড়াকড়ির মধ্যেও সৌদি আরব এখনো বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ের প্রধান উৎস। লোহিত সাগরের তীরে গড়ে ওঠা ফিউচারিস্টিক শহর ‘নিওম’ (NEOM) এবং বিশাল সব পর্যটন প্রকল্পে প্রচুর নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এছাড়া গৃহকর্মী বা ক্লিনার পদের বাইরেও বর্তমানে আইটি, নার্সিং এবং প্রকৌশল খাতে বাংলাদেশিদের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রবাসীদের আর্তি রিয়াদের বাথা বা জেদ্দার বাংলাদেশি মার্কেটগুলোতে কান পাতলেই শোনা যায় প্রবাসীদের দীর্ঘশ্বাস। তাদের একটাই দাবি—বাংলাদেশ দূতাবাস যেন তাদের আইনি সহায়তা দিতে আরও তৎপর হয়। বিশেষ করে আকামা জটিলতা নিরসন এবং বকেয়া বেতন আদায়ে দূতাবাসের ভূমিকা আরও শক্তিশালী দেখতে চান তারা। সৌদি আরবের বুকে রক্ত পানি করা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা চান একটু নিরাপত্তা আর সম্মানের সাথে কাজ করার সুযোগ।

ভিশন ২০৩০ ও আকামা সংকট: সৌদি আরবভিত্তিক প্রবাসীদের দিনলিপি

আরব আমিরাতে বাংলাদেশিরা: শ্রমিক জীবন থেকে ব্যবসায়িক

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *