মালয়েশিয়ায় জরিমানা দিয়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ‘পিআরএম’ কর্মসূচিতে প্রবাসীদের ভিড়

মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত ও ভিসা জটিলতায় আটকে থাকা বিদেশি নাগরিকদের কোনো প্রকার জেল বা দীর্ঘ আইনি শাস্তি ছাড়াই সামান্য জরিমানা দিয়ে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ (পিআরএম) নামের এই কর্মসূচিতে সরাসরি ইমিগ্রেশন অফিসে ৫০০ রিঙ্গিত সরকারি জরিমানা এবং ওয়ান-ওয়ে বিমান টিকিট জমা দিয়ে কর্মীরা বিশেষ ডিপার্চার পাস সংগ্রহ করছেন। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সতর্ক করেছে, কোনো দালাল বা এজেন্টের শরণাপন্ন না হয়ে সরাসরি অভিবাসন দপ্তরে গিয়ে এই আইনি সুযোগ নেওয়ার জন্য।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পিআরএম ২.০ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ১২টি দেশের মোট ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৬ জন অনিয়মিত প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। এই সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে ১২ কোটি ৭০ লাখ রিঙ্গিত। শুধু সেলানগর রাজ্যেই গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৭৮৭ জন এই কর্মসূচিতে অংশ নেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
পিআরএম মূলত একটি স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম, যা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের নিষ্পত্তির একটি বৈধ পথ। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা বা দীর্ঘ কারাদণ্ডের পরিবর্তে নির্দিষ্ট হারে জরিমানা আরোপ করা হয়।
মূল জরিমানার হার নির্ধারিত আছে এভাবে—বৈধ পাস ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বা অবস্থান, কিংবা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে ৫০০ রিঙ্গিত; আর পাসের শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে ৩০০ রিঙ্গিত। এছাড়া বিশেষ পাস (স্পেশাল পাস) ইস্যু করার জন্য অতিরিক্ত ২০ রিঙ্গিত ফি দিতে হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তবে তাদের অভিভাবকদের বিশেষ পাসের ফি দিতে হয়।
আবেদনকারীদের একটি বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ документ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (সাধারণত আবেদনের ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে) দেশে ফেরার একমুখী বিমান টিকিট জমা দিতে হয়। জরিমানা নগদে নয়, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক দালালের খপ্পরে পড়ে অতিরিক্ত অর্থ খোয়া যাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। হাইকমিশন তাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কোনো এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন নেই। সরাসরি মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের নির্ধারিত অফিসে গিয়ে নির্ধারিত ফি জমা দিলেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় (২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত) প্রবাসীদের আবেদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় রয়েছে।
যেসব বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় ভিসা জটিলতা বা ওভারস্টে সমস্যায় রয়েছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো—প্রথমে নিজের পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করে নিন। মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকলে হাইকমিশন থেকে নতুন পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করিয়ে নিতে হবে। এরপর নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি গিয়ে পিআরএম ২.০-এর জন্য আবেদন করুন। মনে রাখতে হবে, এই কর্মসূচি শুধু স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুকদের জন্যই প্রযোজ্য। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা এই সুযোগ পাবেন না। এছাড়া যারা আগে এই কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেও দেশে ফেরেননি, তারাও নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন না।








