ওমানে সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ বাড়ল, আউটপাসে দেশে ফিরতে পারবেন প্রবাসীরা

ওমানে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি কর্মীদের জন্য জরিমানা বা কোনো ধরনের আইনি শাস্তি ছাড়া নিজ দেশে ফেরার বিশেষ সুযোগ বা ‘ওমানে সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। রয়্যাল ওমান পুলিশ এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়, যার ফলে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি জেল-জরিমানার মতো বড় ধরনের আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার ওমানে কাজের সন্ধানে গিয়ে নানা অপ্রত্যাশিত কারণে অনেক প্রবাসী বৈধ কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেন। ভিসা জটিলতা, স্পন্সরের সাথে বিরোধ কিংবা রেসিডেন্সি কার্ড বা বাতাকার (Bataka) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নবায়ন করতে না পারার কারণে অনেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়ে পড়েন। ওমানের শ্রম আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাস বা কাজ করা একটি গুরুতর অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে ধরা পড়লে কারাবাস এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি আজীবনের জন্য দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে বর্তমান ‘অ্যামনেস্টি’ বা ক্ষমার আওতায় আউটপাস সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ বিনা বাধায় এবং সম্মানের সাথে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে অনেকেই নিজেদের কাগজপত্র প্রস্তুত করে দেশে ফিরতে পারেননি। কর্মীদের সেই অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করেই ওমান সরকার নতুন করে এই সময় বাড়িয়েছে।
নতুন করে সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক বিশাল স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। মাসকাট, সালালাহ, সোহারসহ ওমানের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য বাংলাদেশি কর্মী দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্রবিহীন অবস্থায় দিন পার করছেন। আইনি শাস্তির ভয়ে তারা যেমন প্রকাশ্যে কাজ করতে পারছিলেন না, তেমনি অসুস্থ হলে হাসপাতালেও যেতে পারছিলেন না। দেশে ফেরার পথও তাদের জন্য প্রায় রুদ্ধ ছিল। এখন এই তিন মাসের বর্ধিত সময় তাদের বন্দিদশা থেকে মুক্তির পথ খুলে দিয়েছে। কোনো ধরনের পুলিশি হয়রানি বা ইমিগ্রেশনে জরিমানা ছাড়াই তারা বিমানবন্দর পার হতে পারবেন।
অর্থনৈতিক মন্দা বা কোম্পানির কাজ কমে যাওয়ার কারণে অনেক সময় নিয়োগদাতারা কর্মীদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারেন না। বাধ্য হয়ে কর্মীরা অন্য জায়গায় কাজ খুঁজতে গিয়ে অবৈধ হয়ে পড়েন। ওমান সরকার দেশটিতে শ্রমবাজার ঢেলে সাজাতে এবং অবৈধ কর্মীদের চাপ কমাতে এই ক্ষমার উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রবাসী কর্মীদের একটি সম্মানজনক বিদায়ের পথ করে দিয়েছে।
আউটপাস বা এক্সিট পাস পাওয়ার জন্য প্রবাসীদের সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়। এই সুযোগ কাজে লাগাতে মাসকাটে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও নিজেদের তৎপরতা বাড়িয়েছে। প্রবাসীদের আউটপাস সংগ্রহ প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। কর্মীরা সরাসরি সেখানে গিয়ে নিজেদের তথ্য প্রদান করে আউটপাসের আবেদন করতে পারছেন। যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ আছে তারা সরাসরি, আর যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের ট্রাভেল পারমিট বা ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এরপর রয়্যাল ওমান পুলিশের ছাড়পত্র বা ক্লিয়ারেন্স পেলেই দেশে ফেরার টিকিট কাটা যায়।
যেহেতু সময়সীমা তিন মাস বাড়ানো হয়েছে, তাই দালালদের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি দূতাবাসের মাধ্যমে সঠিক নিয়মে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ প্রবাসীদের প্রতি ওমান সরকারের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের শ্রম কূটনীতির জন্যও একটি ইতিবাচক দিক। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যারা দেশে ফিরবেন, তারা পরবর্তীতে বৈধ উপায়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো আইনি বাধার সম্মুখীন হবেন না। দীর্ঘদিনের অবৈধ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করার এই সুযোগটি প্রবাসীদের দ্রুত কাজে লাগানো প্রয়োজন।











