মার্কিন নির্বাচন পরবর্তী ইমিগ্রেশন নীতি: একদিকে সুবিধা, অন্যদিকে ডেপোর্টেশনের ঝুঁকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নতুন প্রশাসনের অধীনে মার্কিন নির্বাচন পরবর্তী ইমিগ্রেশন নীতি এবং ডেপোর্টেশন বিধিনিষেধ নিয়ে আমেরিকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তনের এই ঢেউ সরাসরি আঘাত হানছে সেখানে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী ও অভিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে। একদিকে পেশাদার ও উচ্চদক্ষ প্রবাসীদের জন্য গ্রীন কার্ড প্রক্রিয়ায় গতি আনার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে অনিয়মিত অভিবাসী ও অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের জন্য নেমে আসছে নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও সাঁড়াশি অভিযানের আতঙ্ক।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর গৃহীত নতুন পরিকল্পনায় দক্ষ জনশক্তি ও পেশাদারদের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও ব্যবসা খাতের দক্ষ প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান ও স্থায়ী বসবাসের পথ সুগম করার দিকে নজর দিচ্ছে প্রশাসন।
যাঁদের সব আইনি কাগজপত্র সঠিক রয়েছে এবং যাঁদের কাজের স্পন্সরশিপ বা এইচ-১বি (H-1B) ধরনের ভিসা রয়েছে, তাঁদের স্থায়ী রেসিডেন্সি বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার জটিলতা আগের চেয়ে সহজ করার আভাস পাওয়া গেছে। ফলে বৈধপথে আসা বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের জন্য এটি বড় ধরনের সুখবর নিয়ে এসেছে।
তবে মুদ্রার অপর পিঠ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মার্কিন নির্বাচন পরবর্তী ইমিগ্রেশন নীতি অনুযায়ী অনিয়মিত বা কাগজপত্রহীন প্রবাসীদের ওপর কড়া নজরদারি শুরু হতে চলেছে। দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বাহিনী বিভিন্ন শহরে তল্লাশি ও আকস্মিক ডেপোর্টেশন ড্রাইভ পরিচালনা করার সংকেত দিয়েছে।
বিশেষ করে যাঁরা রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম (Asylum) আবেদন করে বিচারকাজের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নামে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি বাড়ছে। সীমান্তে নতুন করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার কারণে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সব পথ প্রায় রুদ্ধ হতে বসেছে।
দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক অভিবাসীই এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিটি অভিবাসীর উচিত নিজেদের আইনি নথিপত্র পর্যালোচনা করা।
যাঁরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অবস্থায় আছেন, তাঁদের জন্য অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কোনো কারণে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে প্রবাসীদের অবশ্যই সঠিক নথিপত্র প্রদর্শন ও নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন অধিকারকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অভিবাসন সবসময়ই সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি। নির্বাচনে জয়ী প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য একদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী রাখা।
একদিকে কাজের বাজারে দক্ষ প্রবাসীদের ধরে রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, আর অন্যদিকে অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করে সীমান্ত কড়া করার এই দ্বিমুখী কৌশল আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কাঠামোকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।











