আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা

যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীরা আকামার মেয়াদ শেষ হলেও পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও আকাশপথের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সম্প্রতি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়। এতে ছুটিতে দেশে আসা বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী নির্ধারিত সময়ে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারায় অনেকেরই কাজের বৈধ অনুমতিপত্র বা আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে কর্মস্থলে ফেরা এবং চাকরি টিকিয়ে রাখা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েন আটকে পড়া এই বাংলাদেশিরা। সরকারের নতুন এই ঘোষণায় তাদের সেই অনিশ্চয়তা কাটল।
আটকে পড়া কর্মীরা কীভাবে তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে প্রবেশ করবেন, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিজেদের কোনো গাফিলতি ছিল না। তাই তাদের ওপর কোনো আইনি জটিলতা বা বাড়তি জরিমানার বোঝা চাপানো হবে না।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং পুনরায় ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা গেলে কর্মীরা আগের মতোই সৌদি আরবে যেতে পারবেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশনে কোনো ধরনের জটিলতায় পড়তে হবে না।
মন্ত্রী বলেন, “ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের এন্ট্রি সম্পন্ন হবে।” এর জন্য কর্মীদের নতুন করে আকামা নবায়ন বা দেশে বসে কোনো বাড়তি ফি গোনার প্রয়োজন পড়বে না। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের তথ্য যাচাই করে কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয়। এই আয়ের সবচেয়ে বড় অংশটি আসে সৌদি আরব থেকে। হাজারো কর্মী নিয়মিত ছুটিতে দেশে আসেন এবং ছুটি শেষে ফিরে যান। কিন্তু হঠাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলে তারা আর্থিকভাবে চরম ঝুঁকিতে পড়েন।
বর্তমান পদক্ষেপটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কর্মীদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার রক্ষা করার পাশাপাশি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকেও বড় ধরনের ধাক্কা থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে সরকারের সফল সমন্বয়ের কারণেই এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কর্মীদের নিয়মিত ফ্লাইটের আপডেট এবং সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বা এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গুজব এড়িয়ে সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী যাত্রার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।











