২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলো বিএনপি

বাংলাদেশের প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের (প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) এই উদ্যোগটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধান, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
এর আগে প্রবাসীদের বিষয়াদি শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ছোট অংশ হিসেবে পরিচালিত হতো। ১৯৭৬ সালে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান শুরু হলেও, প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষার জন্য পৃথক কোনো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় ছিল না। ২০০১ সালের ২০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মন্ত্রণালয় গঠিত হয়, যা প্রবাসী কর্মীদের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
মন্ত্রণালয় গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল:
– প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করা।
– নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা।
– নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ।
– রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব বাড়ানো।
– প্রবাসী কর্মীদের সমস্যা (যেমন: প্রতারণা, শোষণ, দুর্ঘটনা, মৃত্যু ইত্যাদি) দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা।
এই মন্ত্রণালয় গঠনের ফলে প্রবাসীদের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পায় এবং বিশেষায়িত দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে এর অধীনে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা চালু হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মন্ত্রণালয় গঠনের কারণে বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং প্রবাসী কর্মীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটে। বর্তমানে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতির একটি বড় স্তম্ভ।
বিএনপি সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে প্রবাসীদের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে দেখেন। মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (probashi.gov.bd) থেকে জানা যায়, এর মূল লক্ষ্য এখনও নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি এবং প্রবাসী কল্যাণ নিশ্চিত করা।











