জনশক্তি রপ্তানি: জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী সূচনা থেকে বেগম জিয়ার সম্প্রসারণ

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানর শাসনামলে (১৯৭৫-১৯৮১), যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর দ্বার উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারগুলোর সময়ে এই খাতে নতুন নতুন শ্রমবাজারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তোলে।
জিয়াউর রহমানের যুগে সূচনা ও ভিত্তি স্থাপন
১৯৭৫ সালের পর দেশ যখন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত, তখন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন দিশা খুঁজে পায় বাংলাদেশ। ১৯৭৬ সালে প্রথম বড় আকারে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়, যখন প্রায় ৬,০৮৭ জন কর্মী কুয়েতে পাঠানো হয়। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে পাকিস্তানি কর্মীরা আধিপত্য বিস্তার করলেও, জিয়া সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় (বিশেষ করে সৌদি আরব, কুয়েতসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন) বাংলাদেশিরা প্রবেশ করে।
একই বছরে Bureau of Manpower, Employment and Training (BMET) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা জনশক্তি রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ৬০ হাজারেরও বেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে যান। এই উদ্যোগ রেমিট্যান্সের প্রবাহ শুরু করে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিয়াউর রহমানের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে ‘বাস্কেট কেস’ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে এবং রেমিট্যান্সকে অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসে পরিণত করে।
খালেদা জিয়ার সময়ে সম্প্রসারণ ও নতুন বাজার
জিয়াউর রহমানের সূচিত পথ ধরে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করে। এ সময়ে গাল্ফ দেশগুলো ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি) সহ নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বিএনপি সরকারের অধীনে বিদেশি কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা রেমিট্যান্সকে অর্থনীতির মূল স্তম্ভে পরিণত করে। ২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং নতুন চুক্তির মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ বাড়ানো হয়। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্য হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে অবস্থানরত লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা জিয়া-খালেদা যুগের সূচিত নীতির ধারাবাহিকতা।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
জনশক্তি রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি মূল স্তম্ভের একটি (গার্মেন্টস, কৃষি ও রেমিট্যান্স)। এ খাত গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতা ও খালেদা জিয়ার সম্প্রসারণমূলক নীতি ছাড়া আজকের এই অবস্থান সম্ভব হতো না।
ভবিষ্যতে দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে এ খাতকে আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান উদ্যোগগুলো এই লক্ষ্যে কাজ করছে।











