খামেনি মারা গেছেন, ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা দেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর এই বিস্ফোরক দাবি করলেন ট্রাম্প। তবে তেহরান এই খবরকে ‘মানসিক যুদ্ধ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার পোস্টে খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার মৃত্যু বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।
ট্রাম্পের দাবি ও তেহরানের অস্বীকার
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, “খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, খামেনির মৃত্যু শুধু ইরানের শোষিত জনগণের জন্য নয়, বরং ওইসব আমেরিকান ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের জন্যও শান্তি বয়ে আনবে যারা খামেনির নির্দেশে প্রাণ হারিয়েছেন বা পঙ্গু হয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, এটি ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার ‘একমাত্র ও সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগ’।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দুজনেই ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন। তিনি একে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অপপ্রচার বলে বর্ণনা করেছেন। তবে তেহরান এখন পর্যন্ত খামেনির কোনো নতুন ভিডিও বা ছবি প্রকাশ করেনি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সংকট দেখেছি, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি যেন সব সংজ্ঞাকে হার মানিয়েছে। খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। তার অনুপস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময় এল যখন ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে। ট্রাম্প তার বার্তায় ইরানিদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন এবার ইরানে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জ করতে বদ্ধপরিকর। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়াই ছিল পেন্টাগনের মূল লক্ষ্য।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে যেতে পারে। এটি একদিকে যেমন বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইরানের ভেতরে গৃহযুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।











