নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মধ্যপ্রাচ্য #রেমিট্যান্স

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটে খাদের কিনারায় দেশের অর্থনীতি

টানা আট মাস ধরে চলা নেতিবাচক ধারার পর সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে দেশের পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ সংকটে যখন রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই প্রধান পাঁচটি খাতের রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এই দ্বিমুখী সংকটে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসটি বাংলাদেশের বাণিজ্য ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাধারণত মার্চ মাসে বিশ্ববাজারে পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের চাহিদা থাকলেও এবার চিত্র ছিল উল্টো। তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং পাট ও পাটজাত পণ্য—এই শীর্ষ পাঁচ খাতের সব কটিতেই রপ্তানি আয় গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি আয়ের এই ১৮ শতাংশ পতন কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎসে বড় ধরনের ফাটল। যেখানে ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে রপ্তানি আয়ের এমন নিম্নগতি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

আরও পড়ুনঃ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা, জেনে নিন প্রয়োজনে যোগাযোগের নম্বর!

দেশের রপ্তানি কমার নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ সমস্যার চেয়ে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের টান পড়ছে। উচ্চ মূল্যের জ্বালানি ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করতে গিয়ে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে বহুগুণ।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও বিদেশি ক্রেতারা আগের তুলনায় ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতে।

কেবল শীর্ষ পাঁচ খাতই নয়, প্রকৌশল পণ্য, প্লাস্টিক এবং হস্তশিল্পের মতো ছোট ছোট খাতগুলোও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামালের আমদানিতে এলসি (LC) জটিলতা এবং কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *