বিদেশি ডিগ্রিকে যারা বদলে দিয়েছেন দেশের শক্তিতে

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরে এসে সফল ক্যারিয়ার গড়ছেন বাংলাদেশি তরুণরা। ২০২৬ সালে এ প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হচ্ছে, কারণ অনেকেই বিদেশি অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।
বিদেশে পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে একসময় ছিল অনিশ্চয়তার ধারণা—দেশে ফিরলে সুযোগ কমে যাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। এখন অনেকেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়ন খাতে সরাসরি কাজে লাগাচ্ছেন।
বিশেষ করে প্রযুক্তি, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্টার্টআপ খাতে বিদেশফেরত তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তাদের অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, বরং পুরো খাতের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
ঢাকার এক তরুণ প্রকৌশলী যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে দেশে ফিরে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সীমিত পুঁজি থাকলেও বিদেশে শেখা সমস্যা সমাধান পদ্ধতি এবং টিম ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা তাকে এগিয়ে দেয়। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান দেশের পাশাপাশি বিদেশেও সেবা দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বিশেষ স্কিমে বাড়ছে প্রবাসীদের আগ্রহ
অন্যদিকে ইউরোপ থেকে ফেরত একজন গবেষক বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং স্থানীয় শিল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার চালুর উদ্যোগ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকলেও অনেকেই দেশে ফিরে আসছেন তিনটি প্রধান কারণে—
প্রথমত, নিজ দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে দ্রুত বাড়তে থাকা প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম।
তৃতীয়ত, পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কের টান।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন দেশের অনেক সেক্টরে বিদেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে, যা ফিরতি প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করছে।
দেশে ফিরে আসা সবসময় সহজ নয়। অনেকেই শুরুতে বেতন কাঠামো, কাজের পরিবেশ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় হতাশ হন। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে।
বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি কোম্পানি এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো বিদেশফেরত দক্ষ জনবলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও তারা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারছেন।











