কোন দেশে প্রবাসীদের বাড়ি কেনার শর্ত তুলনামূলক সহজ?

প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এখন বিদেশে সম্পত্তি বা বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছেন। ২০২৬ সালে বিশেষ করে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ তুলনামূলক সহজ শর্তে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ দিচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাস দুই ক্ষেত্রেই আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
বিশ্বায়নের যুগে শুধু কর্মসংস্থান নয়, এখন অনেকেই নিরাপদ বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য বিদেশে বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকেন, তারা একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নত জীবনমান এবং সম্পদের নিরাপত্তা—এই তিনটি কারণ বিদেশে সম্পত্তি কেনার প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
সহজ শর্তে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকা দেশগুলো
বিভিন্ন দেশে বিদেশিদের জন্য সম্পত্তি কেনার নিয়ম আলাদা হলেও কিছু দেশ তুলনামূলকভাবে সহজ নীতি অনুসরণ করে।
পর্তুগাল:
ইউরোপের দেশ পর্তুগাল দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য জনপ্রিয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগের মাধ্যমে রেসিডেন্সি সুবিধাসহ সম্পত্তি কেনার সুযোগ রয়েছে।
তুরস্ক:
তুরষ্ক বিদেশিদের জন্য সম্পত্তি কেনায় তুলনামূলক সহজ শর্ত দেয়। নির্দিষ্ট মূল্যের সম্পত্তি কিনলে রেসিডেন্সি এবং নাগরিকত্বের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সেকেন্ড হোম হিসেবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড কেন পছন্দের শীর্ষে?
সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই):
দুবাই ফ্রি হোল্ড এলাকায় বিদেশিরা সহজেই সম্পত্তি কিনতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদি রেসিডেন্সি ভিসার সঙ্গে সম্পত্তি বিনিয়োগ যুক্ত থাকলে সুবিধা আরও বাড়ে।
মালয়েশিয়া:
মালইয়েশিয়া বিদেশিদের জন্য “Malaysia My Second Home (MM2H)” প্রোগ্রামের মাধ্যমে সম্পত্তি কেনার সুযোগ দেয়, যদিও নির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়।
থাইল্যান্ড:
থাইলয়ান্ডে বিদেশিরা সাধারণত জমি না কিনতে পারলেও কনডোমিনিয়াম সহজ শর্তে কিনতে পারেন, যা পর্যটন ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়।
কী শর্তগুলো সাধারণত প্রযোজ্য হয়
যদিও দেশভেদে নিয়ম ভিন্ন, তবে কিছু সাধারণ শর্ত প্রায় সব জায়গায় দেখা যায়—
- নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ (ন্যূনতম সম্পত্তি মূল্য)
- বৈধ আয়ের উৎস প্রমাণ
- ব্যাংকিং ও অর্থ লেনদেনের স্বচ্ছতা
- কখনো কখনো রেসিডেন্সি ভিসার সঙ্গে সম্পত্তি সংযুক্ত শর্ত
তবে বিদেশে সম্পত্তি কেনা শুধু সুযোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সিদ্ধান্ত। অনেক সময় বাজারের অস্থিরতা, আইনি জটিলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া অননুমোদিত এজেন্ট বা ভুল তথ্যের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই সরকারি নিয়ম ও স্থানীয় আইন ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্পত্তি বাজার ধীরে ধীরে আরও নিয়মতান্ত্রিক হচ্ছে। দেশগুলো এখন “স্মার্ট ইনভেস্টর” আকৃষ্ট করতে চায়, যারা শুধু সম্পত্তি নয়, বরং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখতে পারে।
ফলে ভবিষ্যতে বিদেশে বাড়ি কেনা আরও কাঠামোবদ্ধ হলেও সুযোগও থাকবে, বিশেষ করে দক্ষ বিনিয়োগকারীদের জন্য।











