বিশ্বজুড়ে সস্তায় ভ্রমণের ৫টি গোপন কৌশল

বিশ্বজুড়ে আকাশপথের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীরা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং এয়ারলাইন্সগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তনের ফলে গত এক বছরে টিকিটের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে সঠিক কৌশল জানা থাকলে এই অস্থির বাজারের মধ্যেও সুলভ মূল্যে টিকিট কাটা সম্ভব।
বিগত কয়েক মাস ধরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ কিংবা আমেরিকার রুটে বিমানের টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি, যা একটি ফ্লাইটের মোট ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ। দ্বিতীয়ত, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং তৃতীয়ত, কোভিড-পরবর্তী সময়ে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। চাহিদার তুলনায় ফ্লাইটের সংখ্যা কম হওয়ায় কৃত্রিম সংকটও তৈরি হচ্ছে কোনো কোনো রুটে।
এয়ারলাইন্সগুলো এখন ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ মডেল ব্যবহার করে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বাড়ে বা কমে। অনেক সময় দেখা যায়, একই ফ্লাইটের টিকিট এক ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে। এই গোলকধাঁধায় পড়ে সাধারণ প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ কেবল যাতায়াত খরচেই খুইয়ে ফেলছেন। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও অভিজ্ঞ পর্যটকরা কিছু বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে নামমাত্র মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করছেন।
পর্যটন খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, টিকিট কাটার ক্ষেত্রে ‘আর্লি বার্ড’ বা আগেভাগে বুকিং দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তবে কেবল আগে বুকিং দেওয়াই যথেষ্ট নয়; ব্রাউজারের কুকিজ ট্র্যাকিং এড়ানো এবং সঠিক দিনে টিকিট খোঁজা দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এয়ারলাইন্সগুলোর অফার এবং ক্রেডিট কার্ডের রিওয়ার্ড পয়েন্ট ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে।
সস্তায় বিমান টিকিট কাটার ৫টি গোপন টিপস:
ইনকগনিটো মোড ব্যবহার: আপনি যখন বারবার একই রুটের টিকিট সার্চ করেন, তখন এয়ারলাইন্স সাইটগুলো কুকিজের মাধ্যমে তা ট্র্যাক করে দাম বাড়িয়ে দেয়। তাই টিকিট সার্চ করার সময় ব্রাউজারের ‘Incognito’ বা প্রাইভেট মোড ব্যবহার করুন।
সপ্তাহের মাঝামাঝি ভ্রমণ: সপ্তাহান্তের দিনগুলোতে (শুক্রবার বা শনিবার) টিকিটের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে। তুলনামূলক সস্তায় টিকিট পেতে মঙ্গলবার বা বুধবার ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন। সাধারণত এই দিনগুলোতে যাত্রীচাপ কম থাকে।
বুকিংয়ের সঠিক সময়: আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অন্তত ২ থেকে ৩ মাস আগে টিকিট কাটলে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া যায়। শেষ মুহূর্তের (Last Minute) বুকিং সবসময়ই পকেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
গুগল ফ্লাইটস ও প্রাইস অ্যালার্ট: টিকিট কাটার আগে ‘Google Flights’ বা ‘Skyscanner’-এর মতো সার্চ ইঞ্জিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের দাম তুলনা করুন। ‘Price Alert’ সেট করে রাখলে টিকিটের দাম কমলেই আপনার ফোনে নোটিফিকেশন চলে আসবে।
কানেক্টিং ফ্লাইটের সুবিধা: সরাসরি বা ডিরেক্ট ফ্লাইটের চেয়ে কানেক্টিং ফ্লাইটে সময় একটু বেশি লাগলেও টিকিটের দাম অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম হয়। লম্বা দূরত্বের যাত্রায় এটি একটি দারুণ সাশ্রয়ী কৌশল।
বিমানের টিকিটের দাম বাড়লেও স্মার্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ভ্রমণ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এয়ারলাইন্সগুলো এখন বিভিন্ন উৎসবে বা অফ-পিক সিজনে বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে বড় ছুটির ঠিক আগে টিকিট না কেটে কিছুটা সময় হাতে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।











