দূর পরবাসে বসেই মিলবে স্মার্ট কার্ডের সমাধান

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও স্মার্ট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে বিদেশে অবস্থান করেই নতুন ভোটার হওয়া এবং তথ্য সংশোধনের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা। এই উদ্যোগের ফলে কয়েক লাখ রেমিট্যান্স যোদ্ধার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হতে চলেছে।
বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে দেশে ফিরে একজন প্রবাসীকে যখন সামান্য এনআইডি কার্ডের জন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয়, তখন সেই গ্লানি হয়ে ওঠে অসহনীয়। ব্যাংকিং লেনদেন, জমি কেনাবেচা কিংবা সিম কার্ড কেনা—জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া আজ যেন নাগরিক জীবন অচল। কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে প্রবাসীদের জন্য এই পরিচয়পত্র পাওয়া ছিল এক দুঃসাধ্য লড়াই।
নির্বাচন কমিশনের নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে পর্যায়ক্রমে এনআইডি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে একজন প্রবাসী এখন আর কেবল ছুটির অপেক্ষায় বসে না থেকে কর্মস্থলের দেশেই আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) প্রদান এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে পারছেন।
ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, অনলাইন পোর্টালে আবেদনের প্রক্রিয়াটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারকারী-বান্ধব করা হয়েছে। আগে প্রবাসী ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির কারণে যেসব টেকনিক্যাল সমস্যা হতো, সেগুলো এখন বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশিরা এই সুবিধার আওতায় অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ কাতারের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত: ইউরোপে দাম বাড়লো ৫০ শতাংশ
স্মার্ট কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রেও এসেছে গতি। অনেক ক্ষেত্রে দূতাবাস থেকে কার্ড সংগ্রহের পাশাপাশি ডাকযোগেও নির্দিষ্ট ঠিকানায় কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এটি কেবল একটি প্লাস্টিক কার্ড নয়, বরং প্রবাসীদের কাছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্মানের প্রতীক।
প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
অনলাইন আবেদন: প্রবাসী বাংলাদেশিরা
services.nidw.gov.bdপোর্টালে গিয়ে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।দূতাবাস সেবা: সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে ইতোমধ্যেই এই সেবা পুরোদমে চালু হয়েছে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র: বৈধ পাসপোর্টের কপি, বিদেশের ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং বাংলাদেশে অবস্থানকারী একজন শনাক্তকারীর এনআইডি নম্বর।
সংশোধন সুবিধা: ভুল নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য এখন আর সশরীরে ঢাকা আসার বাধ্যবাধকতা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে; নথিপত্র অনলাইনে আপলোড করেই যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে।
তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। অনেক প্রবাসী প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ না হওয়ায় অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ছেন। এছাড়া সার্ভারের ধীরগতি এবং নথিপত্র যাচাইয়ে দীর্ঘসূত্রতা এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দূতাবাসগুলোতে দক্ষ জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতিতে যারা অক্সিজেনের মতো জোগান দিচ্ছেন, তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।











