প্রবাসীরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া রক্ষায় সাইবার কবচ গড়বেন যেভাবে

প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো আয়ের ওপর নজর পড়েছে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের। গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দখলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সামান্য অসতর্কতায় সারাজীবনের সঞ্চয় হারানোর ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। আর কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতে ভরসা ডিজিটাল ব্যাংকিং বা অ্যাপ। সাইবার অপরাধীরা ঠিক এই জায়গাটিকেই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করছে। অনেক প্রবাসী প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হলেও সাইবার নিরাপত্তার আধুনিক মারপ্যাঁচ সম্পর্কে সচেতন নন। ফলে তারা সহজেই ‘ফিশিং’ বা ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর শিকার হচ্ছেন।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা এখন কেবল পাসওয়ার্ড চুরি করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; তারা প্রবাসীর ছদ্মবেশে দেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে জরুরি বিপদের নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক সম্মানও ধূলিসাৎ হচ্ছে।
দেশের ব্যাংকগুলো এখন প্রবাসীদের জন্য রেমিট্যান্স অ্যাপ চালু করেছে। তবে এই অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কখনোই পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে ব্যাংকিং লেনদেন করা উচিত নয়। এয়ারপোর্ট বা কফিশপের ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করে অ্যাপে লগ-ইন করা মানে নিজের ঘরের চাবি চোরের হাতে তুলে দেওয়া।
এছাড়া, ব্যাংক কখনো ফোন করে ওটিপি (OTP) বা পিন নম্বর জানতে চায় না। অথচ ‘ব্যাংক কর্মকর্তা’ সেজে ফোন করে প্রবাসীদের ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে পিন হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক।
আরও পড়ুনঃ সেকেন্ড হোম হিসেবে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড কেন পছন্দের শীর্ষে?
ফেসবুক বা ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া এখন প্রবাসীদের জন্য এক বড় আতঙ্ক। সাধারণত কোনো অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক করা বা লটারি জেতার প্রলোভনেই এসব ঘটে। একবার অ্যাকাউন্ট দখলে নিতে পারলে হ্যাকাররা সেটিকে ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি ছড়ানো বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো জঘন্য কাজ শুরু করে। অথচ সামান্য কিছু সেটিংস পরিবর্তন করলেই এই ঝুঁকি ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।
আপনার অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যা করবেন
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA): ব্যাংক এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন। এটি পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি দ্বিতীয় একটি নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করে।
অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক নয়: ইমেইল বা মেসেঞ্জারে আসা সন্দেহজনক কোনো লিঙ্ক বা ‘এয়ার টিকিট’ জেতার লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।
পাবলিক ওয়াইফাই এড়িয়ে চলা: ব্যাংকিং অ্যাপ বা সেনসিটিভ তথ্য আদান-প্রদানের সময় মোবাইলের নিজস্ব ডেটা ব্যবহার করুন।
নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন: অন্তত তিন মাস অন্তর বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর এবং বিশেষ চিহ্ন (যেমন: #, $, @) মিলিয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন।
ডিভাইস লক: ফোন বা ল্যাপটপে বায়োমেট্রিক লক (আঙুলের ছাপ বা ফেস আইডি) ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
সাইবার যুদ্ধ এখন কেবল ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এখন আমাদের পকেটে থাকা স্মার্টফোনেও ঢুকে পড়েছে। প্রবাসীদের এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগ এবং দূতাবাসগুলো সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করেছে।











