সৌদি আরবের শ্রম নীতিতে পরিবর্তন

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের বা বিশেষ রেসিডেন্সি সুবিধাভোগী্দের জন্য পৃথক ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সৌদি আরবে কর্মী অধিকার সুরক্ষা, কর্মপরিবেশের আধুনিকায়ন এবং প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে শ্রম আইনে বেশ কিছু যুগান্তকারী সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীদের ইকামা (কাজের অনুমতি) বা ভিসা ফি নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে, কর্মীদের কাছ থেকে এসব ফি আদায় বেআইনি। এছাড়াও কর্মঘণ্টা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির জন্য ওয়ার্ক পারমিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে দেশটির শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (কিউয়া) এক নির্দেশনায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটের জন্য ১০০ সৌদি রিয়াল ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন শ্রম আইনের আওতায় আপনার জন্য প্রযোজ্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনসমূহঃ
কর্মী অধিকার ও ফি
- নিয়োগ ফি: কর্মীদের নিয়োগ, নবায়ন, ওয়ার্ক পারমিট বা ইকামা ফি বাবদ কোনো অর্থ শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা যাবে না। সম্পূর্ণ খরচ নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। এই নিয়ম অমান্য করলে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা ও ৩ বছর পর্যন্ত নিয়োগ নিষিদ্ধের বিধান রয়েছে।
- ওয়ার্ক পারমিট: যারা সৌদি আরবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (স্থায়ী বা বিশেষ আবাসন) সুবিধা ভোগ করছেন, তাদের জন্য এখন থেকে সুনির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কর্মঘণ্টা ও ছুটি
- কাজের সময়সীমা: সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা এবং দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) জন্য আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক।
- মাতৃত্বকালীন ছুটি: নারী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১০ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ১২ সপ্তাহ করা হয়েছে।
চাকরি পরিবর্তন ও কাজের নিয়ম
- কাজের দক্ষতার শ্রেণিবিভাগ: বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্র তিনটি শ্রেণিতে (হাই-স্কিল, স্কিলড এবং বেসিক) বিভক্ত করা হয়েছে, যা শ্রমবাজারের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মূল্যায়ন সহজ করবে।
- ইকামা ট্রান্সফার: নতুন নীতিমালায় প্রবাসীদের ইকামা স্থানান্তর বা চাকরি পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরও সহজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ ও নোটিশ পিরিয়ড শেষ করে কর্মী চাইলে পুরনো নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হতে পারেন।
সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কিউয়া প্ল্যাটফর্মটি দেশটির শ্রমবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পরিচালনা করে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং ভিসা-সংক্রান্তসহ নানা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। তারা জানিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি বা নিবন্ধন ফি নির্ধারিত হবে মূলত ওই কোম্পানির আকার ও ইউনিফায়েড নম্বরের আওতায় নিবন্ধিত মোট কর্মীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে।
নতুন এই নির্দেশনায় তারা আরও জানিয়েছে, সৌদির ‘তামহীর’ কর্মসূচির আওতায় যেকোনো প্রশিক্ষণ চুক্তি এখন থেকে অনলাইনেই নিবন্ধন করা যাবে। তবে এই ধরনের প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো সৌদিকরণ নীতির হিসাব বা বিদ্যমান কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না। এবং এই প্ল্যাটফর্মের যাবতীয় সেবা ফি ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট সিস্টেম এবং কিউয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে সহজে পরিশোধ করা যাবে।
শ্রমিকদের পদত্যাগ সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর নিয়োগকর্তা যদি সেটি গ্রহণ বা স্থগিত না করেন, তবে কর্মী চাইলে সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। তবে পদত্যাগের নোটিশ পিরিয়ডের সময়সীমা চাকরির চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একেক জনের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া ভিসা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে এর ভেতরের কোনো তথ্য আর সংশোধন করা যাবে না। ভিসায় কোনো ভুল তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ভিসাটি বাতিল করে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আবার আবেদন করতে হবে।









