নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ-১ #শ্রমবাজার #স্টুডেন্ট ভিসা

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কাজের ভিসার সুবর্ণ সুযোগ

দক্ষিণ কোরিয়া স্কলারশিপ (GKS) বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা খরচে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা অর্জনের অন্যতম সেরা সুযোগ তৈরি করেছে। কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপের মাধ্যমে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অধ্যয়ন করা যায়। এমনকি আবেদন করার সময় কোরিয়ান ভাষায় দক্ষতা না থাকলেও বা শুধুমাত্র ইংরেজিতে পড়াশোনা শেষ করে সরাসরি চাকরির সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়।

গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ মূলত বৈশ্বিক শিক্ষা বিনিময় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছিল। সিউল এবং আশেপাশের বিখ্যাত সব প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতি বছর বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই সুযোগ পান। অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা পুরোপুরি দূর করে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সিউলের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নানামুখী আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে।

এই স্কলারশিপে মনোনীত হলে শিক্ষার্থীরা বিমান টিকিট, মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা, স্বাস্থ্য বীমা, সেটেলমেন্ট ফান্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় টিউশন ফি পান। এছাড়া যারা ইতোমধ্যে উচ্চ একাডেমিক ফলাফল ধরে রেখেছেন বা গবেষণায় পারদর্শী, তাদের জন্য সরকারিভাবে অতিরিক্ত গবেষণা ভাতা ও বোনাসও প্রদান করা হয়। ফলে সম্পূর্ণ আর্থিক নিশ্চিন্ততায় আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয়।

সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে কোরিয়ায় পড়াশোনা করতে হলে অবশ্যই আগে থেকে কোরিয়ান ভাষায় দক্ষ হতে হবে। তবে বাস্তবতা হলো, দক্ষিণ কোরিয়া স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ‘টপিক’ (TOPIK) বা কোরিয়ান ভাষা সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের অধীনেই প্রথম এক বছর বিনা খরচে কোরিয়ান ভাষা শেখার নিবিড় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়।

এমনকি কোরিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশ কিছু ব্যাচেলর ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম পুরোপুরি ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। আবেদনকারীরা আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার পরীক্ষা যেমন IELTS বা TOEFL-এর ভালো স্কোর জমা দিয়ে ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তির জন্য সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও এক বছরের ভাষা ক্লাসের দৌলতে পাঠ্যক্রম শেষে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেওয়ার মতো মৌলিক দক্ষতা তৈরি হয়ে যায়।

কোরিয়ায় শিক্ষা জীবন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সামনে স্থায়ী কর্মসংস্থানের এক বিশাল ক্ষেত্র উন্মুক্ত হয়। কোরিয়ান সরকার দক্ষ বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ধরে রাখতে ভিসা নীতিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া স্কলারশিপ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি অর্জনের পরপরই সরাসরি সুযোগ অনুযায়ী ‘E-7’ পেশাদার কাজের ভিসায় আবেদন করতে পারেন।

স্বাভাবিকভাবে কোরিয়ায় অন্য দেশ থেকে গিয়ে E-7 ভিসা পেতে হলে ন্যূনতম ১ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়, কিন্তু স্থানীয় ৪ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতার শর্ত পুরোপুরি মওকুফ করা হয়। যদি কোনো শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশনের পরপরই চুক্তিভিত্তিক চাকরি নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে তিনি ‘D-10’ বা জব সিকার ভিসায় রূপান্তর হয়ে ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত কোরিয়ায় অবস্থান করে চাকরির চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারেন।

GKS স্কলারশিপে আবেদনের জন্য দুটি প্রধান মাধ্যম বা ট্র্যাক রয়েছে—এম্বাসি ট্র্যাক এবং ইউনিভার্সিটি ট্র্যাক। এম্বাসি ট্র্যাকে প্রার্থীরা নিজ দেশের কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন জমা দেন, যেখানে তিনটি পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করা যায়। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকে সরাসরি কোরিয়ার যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পাঠাতে হয়।

প্রতিটি ট্র্যাকে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও নথিপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সাধারণত ব্যাচেলর প্রোগ্রামের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এবং মাস্টার্স বা পিএইচডির জন্য আবেদন জমা নেওয়া হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে। সঠিক একাডেমিক সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP), রিকমেন্ডেশন লেটার ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সঠিকভাবে সাজিয়ে অনলাইনে আবেদন করলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কাজের ভিসার সুবর্ণ সুযোগ

প্রবাসীদের জন্য চলতি মাসেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কাজের ভিসার সুবর্ণ সুযোগ

দক্ষিণ আমেরিকার নিরাপদ ও উন্নত দেশ চিলিতে

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *