লাটভিয়ায় স্টার্টআপ ভিসা ও উচ্চশিক্ষার সহজ উপায়

লাটভিয়ায় স্টার্টআপ ভিসা ও সাশ্রয়ী খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চমৎকার এই দেশটি স্বল্প টিউশন ফি, সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রযুক্তিবান্ধব সরকারি নীতিমালার জন্য বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখান থেকেই পুরো সেনজেন অঞ্চলে নিজের উদ্ভাবনী ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পেশাগত ক্যারিয়ার বিস্তার করা একদম সহজ।
বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত সুন্দর দেশ লাটভিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক প্রতিশ্রুতিশীল গন্তব্য। পশ্চিম ইউরোপের জার্মানি, ফ্রান্স বা সুইডেনের তুলনায় এখানে পড়াশোনা ও থাকার খরচ প্রায় অর্ধেকেরও কম। দেশটির Riga Technical University কিংবা University of Latvia-র মতো নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে শতাধিক প্রাকটিক্যাল ডিগ্রি অফার করা হয়।
পড়াশোনাকালীন আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীরা আধুনিক গবেষণাগার, বিশ্বমানের লাইব্রেরি ও ইউরোপীয় অ্যাকাডেমিক কারিকুলামের সর্বোচ্চ সুবিধা পান। এখানকার ডিগ্রির মান পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে স্বীকৃত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চলাকালীনই আন্তর্জাতিক করপোরেট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারেন। ফলে ডিগ্রির পাট চুকানোর আগেই ইউরোপীয় বাজারে নিজেদের যোগ্য স্থান তৈরি করা শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
ইউরোপের বাজারে কোনো নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ বা আইটি কোম্পানি গড়ে তুলতে চাইলে লাটভিয়া সরকার উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ইমিগ্রেশন সুবিধা দিয়ে থাকে। যেকোনো আন্তর্জাতিক নাগরিক উদ্ভাবনী, প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত প্রসারযোগ্য ব্যবসায়ের পরিকল্পনা প্রদর্শন করে সহজে লাটভিয়ায় স্টার্টআপ ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই ভিসার অধীনে প্রধান উদ্যোক্তা ও তাঁর পরিবার ৩ বছর পর্যন্ত প্রাথমিক রেসিডেন্স পারমিট পেয়ে থাকেন।
দেশটিতে ব্যবসা নিবন্ধনের জটিলতা অত্যন্ত কম এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর ছাড়ের বিশেষ সুবিধা রয়েছে। আইটি, সাইবার সিকিউরিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ই-কমার্স ও ফিনটেক খাতের প্রবাসীরা খুব সহজেই এই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কাজে লাগাতে পারছেন। ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো শুরুতে বিশাল অংকের মূলধন বিনিয়োগের কঠোর শর্ত না থাকায় নতুনদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
লাটভিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর বা ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর শিক্ষার্থীরা ৯ মাসের পোস্ট-স্টাডি জব সিকার ভিসা পেয়ে থাকেন। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা লাটভিয়া কিংবা সংলগ্ন শেঙ্গেনভুক্ত ২৯টি দেশের যেকোনো একটিতে উপযুক্ত চাকরি খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পান। স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে ফুল-টাইম চুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে স্টুডেন্ট ভিসা থেকে সহজেই তা ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তর করা যায়।
আইটি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাটা সায়েন্স, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইন সেক্টরে বর্তমানে দেশটিতে দক্ষ কর্মীর উচ্চ চাহিদা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কোম্পানিতে টানা ৫ বছর আইনি উপায়ে কাজ করা ও নিয়মিত আয়কর পরিশোধের পর প্রবাসীরা স্থায়ী আবাসন বা পিআর (PR) আবেদনের জন্য যোগ্য হন। পিআর অর্জিত হলে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে স্বাধীনভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রার্থীরা পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পার্ট-টাইম কাজ করার আইনি সুবিধা পেয়ে থাকেন। এছাড়া শিক্ষাবর্ষের সেমিস্টার বিরতি কিংবা গ্রীষ্মকালীন ছুটির দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা পূর্ণকালীন ৪০ ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি পান। রিটেইল শপ, রেস্তোরাঁ, আইটি সাপোর্ট সার্ভিস ও লজিস্টিকস খাতের কাজ থেকে অর্জিত আয় দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় অনায়াসে মেটাতে পারেন।











