নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #শ্রমবাজার

আইইএলটিএস ছাড়াই বিদেশে আকর্ষণীয় বেতন: স্কিলড ব্লু-কলার জব প্রার্থীদের নতুন গন্তব্য

স্কিলড ব্লু-কলার জব খাতের দক্ষ কর্মী হিসেবে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি উদীয়মান দেশে উচ্চ বেতনে কাজের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্লাম্বিং, ইলেকট্রিশিয়ান, ভারী গাড়ি চালক কিংবা মেকানিকদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে কোনো আইইএলটিএস সনদের প্রয়োজনই হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত বাধার বাইরে গিয়ে ইউরোপের রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে কাজের আন্তর্জাতিক বাজার দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।

পশ্চিম ইউরোপের পাশাপাশি পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের একাধিক দেশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন প্রবাসীদের বিপুল চাহিদা রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যমুখী প্রবাসীদের জন্য এগুলো তুলনামূলক কম পরিচিত গন্তব্য হলেও বেতন ও জীবনযাত্রার মান অনেক বেশি। রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও লিথুয়ানিয়ার মতো দেশে ভারী শিল্প ও নির্মাণ খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় দক্ষ কর্মীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এসব দেশে কারিগরি কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রতি মাসে ১,২০০ থেকে ২,০০০ ইউরো পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। কাজের অতিরিক্ত সময় হিসাব করলে মাসিক আয় আরও বৃদ্ধি পায়। ভাষা কিংবা আইইএলটিএস-এর প্রথাগত শর্ত শিথিল থাকায় বাংলাদেশি প্রার্থীরা দক্ষতার সনদপত্র দিয়েই এসব দেশে সরাসরি কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

উচ্চ বেতনের কারিগরি পেশার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারী গাড়ি ও ট্রাক চালক, সার্টিফাইড ইলেকট্রিশিয়ান, মেকানিক এবং অটোমেশন প্লাম্বার। ট্রাক চালকদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নির্দিষ্ট গাড়ি চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলেই সহজে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায়। জার্মানি বা পোল্যান্ডে একজন অভিজ্ঞ ট্রাক চালক বা মেকানিক মাসে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার ইউরো পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজে অভিজ্ঞ প্রার্থীরা ইউরোপের বিভিন্ন কারখানা ও প্রসেসিং প্ল্যান্টে সরাসরি টেকনিশিয়ান হিসেবে যুক্ত হতে পারেন। প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের কাজের দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা ইংরেজি ভাষার স্কোরের ওপর নয়। কাজের মৌলিক প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা বা অনলাইন ইন্টারভিউ উত্তীর্ণ হলেই ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।

উৎপাদনশীল শিল্প ও লজিস্টিকস খাতের প্রসারের কারণে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরি এখন কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল কারখানা এবং শিপবিল্ডিংইয়ার্ডগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার মেকানিক ও ওয়েল্ডার নিয়োগ করা হচ্ছে। নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো নিজেরাই কর্মীদের আকর্ষণে থাকার জায়গা ও যাতায়াত খরচ বহন করে।

অনেক দেশে কাজের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ইমিগ্রেশন আইনের অধীনে সাময়িক রেসিডেন্স পারমিট বা টিআরসি (TRC) পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত এসব দেশে ৫ বছর টানা আইনিভাবে বসবাস ও আয়কর পরিশোধের পর স্থায়ী আবাসন বা পিআর মেলাও সহজ হয়ে যায়। ফলে সাময়িক উপার্জনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী আবাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

যেহেতু ইংরেজি ভাষার আনুষ্ঠানিক সনদ আবশ্যক নয়, তাই আবেদনকারীদের প্রধান শক্তি হলো তাদের কাজের দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। আবেদন করার পূর্বে কাজের প্রাসঙ্গিক এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট, কারিগরি ট্রেনিং সেন্টারের সনদ এবং ট্রেড টেস্টের রেজাল্ট প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানের একটি জীবনবৃত্তান্ত (CV) ও কাজের ছোট ভিডিও বানিয়ে রাখা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

নিয়োগদাতা কোম্পানি সরাসরি প্রার্থীর দক্ষতা মূল্যায়ন করে স্পন্সরশিপ লেটার প্রদান করে। এরপর স্থানীয় দূতাবাস কিংবা অনুমোদিত ভিএফএস সেন্টারে সরাসরি ক্যাটাগরি-ডি ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করা যায়। সঠিক পথ ধরে এগোলে মধ্যপ্রাচ্যের কম বেতনের শ্রমবাজারের বিকল্প হিসেবে এই স্কিলড ব্লু-কলার জব প্রার্থীদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *