নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রিয় বাংলাদেশ

প্রবাসীদের বিমান ভাড়া সহনীয় ও বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের জিরো টলারেন্স

দেশের বিমান খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রবাসী কর্মীসহ সাধারণ বিমানযাত্রীদের স্বস্তি দিতে এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, টিকিটের কালোবাজারি রোধে ট্রাভেল এজেন্সি ও বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

এয়ারলাইন্স টিকিট ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। পূর্বে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নামমাত্র মূল্যে টিকিট কেটে কৃত্রিম সংকট তৈরি করত এবং পরবর্তীতে সাধারণ প্রবাসীদের কাছে চড়া দামে তা বিক্রি করত।

সরকারের নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অপকৌশল পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন বিধিতে এয়ারলাইন্স এবং এজেন্সি উভয়ের ওপরই নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

কালোবাজারি ঠেকাতে সরকারের নেওয়া সবচেয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্তটি হলো টিকিটের গায়ে বিক্রয়মূল্য ও এজেন্সির পরিচয় উন্মুক্ত করা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীর হাতে পাওয়া টিকিটে ইস্যুকারী ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং আসল বিক্রয়মূল্য সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকতে হবে।

যদি কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্বত্বভোগী যাত্রী থেকে টিকিটে লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দাবি করে, তবে মুহূর্তেই তা প্রমাণ করা সহজ হবে। এতে করে যাত্রীরা আর বাড়তি অর্থ দিয়ে টিকিট কিনতে প্রতারিত হবেন না।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে আকাশপথের অস্বাভাবিক ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। কাজের সন্ধানে বিদেশে যাওয়ার সময় টিকিটের অস্বাভাবিক চড়া দাম প্রবাসীদের জন্য এক বিশাল আর্থিক বোঝায় পরিণত হতো।

মন্ত্রণালয়ের নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীরা ন্যায্য ও সহনীয় মূল্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ কমিশন বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হয়ে যাবে।

রোববার সংসদ অধিবেশনে এই বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বিষয়টিকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং চালানো হবে, যাতে কোনো এজেন্সি আইনের ফাঁক গলে কোনো ধরনের বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট বা অনিয়মের আশ্রয় নিতে না পারে। লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের বিমান ভাড়া সহনীয় ও বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারের জিরো টলারেন্স

ইতালি ডিএসইউ স্কলারশিপ: আবাসনসহ ৭-৮ হাজার ইউরো

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *