“তহবিল পেলে বিনা খরচে সব প্রবাসীর মরদেহ আনা হবে”

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বর্তমানে কেবল বিএমইটি ছাড়পত্রধারী প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা হবে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৩২০ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় তহবিল পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে বিএমইটি
জাতীয় সংসদে বুধবারের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় ৩২০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতি গঠনে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব রয়েছে। যার কারণে অনিয়মিত বা ছাড়পত্র ছাড়া প্রবাসে যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ সরকারি খরচে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিএমইটি (BMET) নিবন্ধিত কর্মীরা সরকারিভাবে নির্ধারিত কল্যাণ তহবিলের আওতায় থাকেন। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যুতে প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা সরকারের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহজ হয়। তবে যেসব কর্মী অনিয়মিত উপায়ে প্রবাসে গিয়েছেন বা যাদের বিএমইটি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁদের পরিবারের জন্য মরদেহ ফেরানো বর্তমানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রবাসীদের সব রকম দুর্ভোগ নিরসনে কাজ করছে। পর্যাপ্ত বাজেট ও বিশেষ তহবিল বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা পুরোপুরি নিখরচায় নিশ্চিত করা হবে। এতে ছাড়পত্রধারী কিংবা ছাড়পত্রহীন—কোনো প্রবাসীর পরিবারের ওপরই আর মরদেহ পরিবহনের অর্থনৈতিক চাপ থাকবে না।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই সঠিক কাগজপত্র ছাড়া কাজ করায় মারা গেলে স্বজনরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন। অনেক সময় মরদেহ বিদেশের হিমঘরে মাসের পর মাস পড়ে থাকে অথবা বিপুল অর্থ ব্যয় করে স্বজনদের দেশে ফেরত আনতে হয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে যে, বিদেশে যাওয়ার পূর্বে প্রত্যেক কর্মী যেন বিএমইটির ছাড়পত্র গ্রহণ নিশ্চিত করেন। এটি কেবল আইনি সুরক্ষাই দেয় না, বরং অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে বা মৃত্যুর মতো ট্র্যাজেডি নেমে আসলে সরকারি সব ধরনের সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা তৈরি করে। ছাড়পত্র না থাকায় অগণিত পরিবারকে মৃত্যুর পর শোকার্ত অবস্থায় আইনি ও আর্থিক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করা গেলে এবং সবাই সচেতন হলে এমন সংকট অনেকাংশেই কমে আসবে। তা সত্ত্বেও, প্রবাসে মারা যাওয়া যেকোনো বাংলাদেশির শেষকৃত্য ও মরদেহ সম্মানজনকভাবে দেশে আনার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।











