যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য F-1 ভিসা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস নীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি

F-1 ভিসা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের নিয়ম সংশোধন করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আই-২০ মেয়াদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। এতকাল যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা সচল রাখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বৈধভাবে অবস্থানের সুবিধা পেতেন, যাকে বলা হতো ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (D/S)। তবে প্রস্তাবিত নতুন নীতি অনুযায়ী, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্যই এখন নির্ধারিত সময়সীমা বাঁধা থাকবে, যা আমেরিকার উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ইমিগ্রেশন কাঠামোর একটি বড় ভিত্তি হলো এফ-১ ভিসা। আগের বিধিতে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যাচেলর শেষ করে মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি সম্পন্ন করা পর্যন্ত দেশে না ফিরেও আই-২০ আপডেট রেখে বছরের পর বছর অবস্থান করতে পারতেন। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, এই সুবিধার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ভিসার ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ওভারস্টে প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মূলত ওভারস্টে রোধ ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও পর্যবেক্ষণযোগ্য করতেই ডিএইচএস এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। নতুন এই কঠোর নীতি কার্যকর হলে স্টুডেন্টদের প্রতি ধাপে ভিসা স্ট্যাটাস বজায় রাখতে বাড়তি নজরদারি পার হতে হবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এই নীতি বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সাধারণত গবেষণা বা থিসিস সংক্রান্ত জটিলতায় অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার মেয়াদ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লেগে যায়।
ভবিষ্যতে F-1 ভিসা ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস তুলে দেওয়ার পর মেয়াদ বাড়াতে হলে শিক্ষার্থীদের ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। সময়মত অনুমোদন না পেলে তা বেআইনি অবস্থান হিসেবে গণ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকবে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ইউনিভার্সিটি প্রদত্ত আই-২০ ফরমই এতদিন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক পরিচয় হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে নতুন বিধির মাধ্যমে আই-২০ ও ভিসা মেয়াদের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় ঘটাতে চাচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থী যদি মেয়াদের মধ্যে কোর্স শেষ করতে না পারেন, তবে কেবল ইউনিভার্সিটির রিকমেন্ডেশন বা ডিজিটেটেড সিগনেচারই যথেষ্ট হবে না। প্রশাসনিক কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হলে পুরো প্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।











