লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্রি স্কলারশিপ নিয়ে যেসব দেশে মিলছে ১০০% টিউশন ফি ছাড়

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদে র জন্য লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্রি স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ শূন্যে নামিয়ে আনার একটি যুগান্তকারী মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কিছু উন্নত দেশ তাঁদের নিজেদের ভাষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের শর্তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। ইংরেজি মাধ্যমের প্রোগ্রামগুলোর অতিরিক্ত টিউশন ফি এড়াতে এই সুযোগ বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দর বজায় রাখছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো প্রতি বছর হাজার হাজার ডলারের টিউশন ফি। তবে বিশ্বের অনেক দেশ তাঁদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আর্থিক ছাড়ের নীতি গ্রহণ করেছে। এই কাঠামোর আওতায় শিক্ষার্থীরা যদি স্বাগতিক দেশের অফিশিয়াল ভাষায় ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করতে সম্মত হন, তবে তাঁদের কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না।
চেক প্রজাতন্ত্রের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেকোনো দেশের শিক্ষার্থী চেক ভাষায় স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পড়লে সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বিখ্যাত ‘জেকেএস’ (GKS) স্কলারশিপের অধীনে শিক্ষার্থীদের এক বছর কোরিয়ান ভাষা শেখানোর পর মূল কোর্সে ভর্তি নেয় এবং পুরো শিক্ষা খরচ মওকুফ করে দেয়।
ইউরোপের অর্থনৈতিক শক্তি ফ্রান্স এবং জার্মানি উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভাবনীয় সুযোগ অফার করছে। জার্মানিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমনিতেই টিউশন ফি নেই বললেই চলে, তবে জার্মান ভাষার প্রোগ্রামে ভর্তি হলে ভর্তি প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। ফরাসি ভাষা শিখে ফ্রান্সে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারলে কেবল নামমাত্র প্রশাসনিক ফি দিয়ে বিশ্বমানের ডিগ্রি অর্জন সম্ভব হয়।
কেবল টিউশন ফি ছাড়ই নয়, স্থানীয় ভাষায় পারদর্শী হলে প্রবাসে পার্ট-টাইম কাজের ক্ষেত্রেও অসামান্য সুবিধা পাওয়া যায়। স্থানীয় ভাষায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা রেস্তোরাঁ কিংবা সুপারশপের বাইরেও বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসে ভালো বেতনের কাজ সহজে জোগাড় করতে পারেন।
স্বাগতিক দেশের ভাষার মাধ্যমে বিনামূল্যে ডিগ্রির সুযোগ পেতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে হয় একটু আগেভাগে। অধিকাংশ দেশই সরাসরি সেদেশে গিয়ে প্রথম এক বছর ভাষা শেখার প্রিপারেটরি কোর্স করার সুযোগ দেয়। তবে নিজ দেশে থাকতেই যদি উক্ত ভাষার মৌলিক বিষয় বা প্রাথমিক স্তর শিখে রাখা যায়, তবে ভিসার আবেদন শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নতুন ভাষা শেখার আগ্রহকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা এসওপিতে এই বিষয়টি সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলে খুব সহজেই লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্রি স্কলারশিপ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
পড়াশোনা শেষ করে সংশ্লিষ্ট দেশে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা জানা থাকাটা সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এমন গ্র্যাজুয়েটদের সবসময় অগ্রাধিকার দেয় যারা স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে সহজে মিশে যেতে পারেন। ফলে কেবল ইংরেজি মাধ্যমে পড়া শিক্ষার্থীদের চেয়ে স্থানীয় ভাষায় ডিগ্রি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা দ্রুত প্রবাসে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্বায়নের এই যুগে শুধু ইংরেজির ওপর নির্ভর না করে নতুন একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখা একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। স্বল্প খরচে বা বিনা খরচে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জনের এই কার্যকর কৌশলকে কাজে লাগিয়ে অগণিত শিক্ষার্থী বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন।











