নভেম্বর ৯, ২০২৬
#জাতীয়

প্রবাসীদের এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে সরকারের বড় পদক্ষেপ: ৪১ দেশে ডিজিটাল সুবিধা

প্রবাসীদের এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও শতভাগ প্রযুক্তিনির্ভর করতে বহুমুখী কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের আইনি ও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে ইতিমধ্যেই ১৭টি দেশের ২৭টি কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পরিষেবা কার্যকর করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) যৌথভাবে বিশ্বজুড়ে মোট ৪১টি দেশে এই সম্পূর্ণ ডিজিটাল সুবিধা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

১০ সেপ্টেম্বর সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। লিখিত উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অবদান রাখা প্রবাসী ভাই-বোনদের সুবিধা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিদেশে গিয়ে ভোটার হওয়া বা এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে অনেক নাগরিক এতদিন নানা হয়রানির শিকার হতেন। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জটিল প্রক্রিয়াটি ঘরের কাছাকাছি নিয়ে আসা। এতে করে সেবাগ্রহীতাদের বাড়তি খরচ ও মূল্যবান সময়—দুটোই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সাশ্রয় হবে।

নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে চালুকৃত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে বসেই বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করে এনআইডি কাডের জন্য আবেদন করছেন প্রবাসীরা। পাসপোর্ট কার্যালয় ও এনআইডি উইংয়ের আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ একীকরণের ফলে নথিপত্র অনলাইন পরীক্ষার কাজ এখন মুহূর্তের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে।

এর পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট নবায়ন, ওয়ারিশ সনদ সত্যায়ন এবং ই-অ্যাপোস্টিল চালুর মাধ্যমে কনস্যুলার সেবা প্রদান আরও স্বচ্ছ করা হয়েছে। ফলে তৃতীয় কোনো মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করেই প্রবাসীরা সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দিষ্ট ডেস্কে গিয়ে তাদের প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।

অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রতিটি কূটনৈতিক মিশনে ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ শক্তিশালী করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো প্রবাসী সেবাপ্রাপ্তিতে দেরি বা অহেতুক বাধার সম্মুখীন হলে সরাসরি অনলাইনে তার অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

অভিযোগ ট্র্যাকিংয়ের জন্য মিশনগুলোতে নির্দিষ্ট ডেডিকেটেড কর্মকর্তা নিয়োজিত রাখা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রতিটি সমস্যার সুরাহা করা যায়। ফলে সরকারের এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমেই সার্বিকভাবে প্রবাসীদের এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা সংক্রান্ত যাবতীয় সংকট দ্রুত নিরসন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *