নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ নিউজ

বিদেশে প্রপার্টি কিনে গোল্ডেন ভিসা: দুবাই, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পিআর পাওয়ার সহজ নিয়ম

বিদেশে প্রপার্টি কিনে গোল্ডেন ভিসা বা স্থায়ী বাসস্থান (PR) অর্জনের সুবিধা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নত জীবনের সন্ধানে থাকা প্রবাসীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোতে রিয়েল এস্টেট খাতে মূলধন বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সির পথ উন্মোচন করছেন অনেকে। তবে দেশভেদে আবাসন আইন, বিনিয়োগের পরিমাণ ও নাগরিকত্বের বিধিমালার ভিন্নতা রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র দুবাই বর্তমানে আবাসন বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে। এখানে নির্দিষ্ট ফ্রিহোল্ড এলাকায় কমপক্ষে ২০ লাখ আমিরাতি দিরহাম (প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মার্কিন ডলার) মূল্যের রিয়েল এস্টেট সম্পদ ক্রয় করলে সরাসরি ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসা পাওয়া যায়। এই ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে কোনো স্থানীয় স্পন্সরের প্রয়োজন হয় না এবং পরিবারকে সঙ্গে রাখার পূর্ণ আইনি অধিকার মেলে।

দুবাইয়ের বর্তমান আইন অনুযায়ী, একটি মাত্র বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি একাধিক প্রপার্টি মিলিয়েও ২০ লাখ দিরহামের যোগ্যতা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া প্রস্তুতকৃত (Ready) ফ্ল্যাটের পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত ডেভেলপারদের অফ-প্ল্যান প্রজেক্ট কিংবা ব্যাংক ঋণে কেনা প্রপার্টির ক্ষেত্রেও গোল্ডেন ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে এককালীন বিপুল নগদ অর্থ না থাকলেও নির্দিষ্ট ডাউনপেমেন্ট পরিশোধ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই রেসিডেন্সি সুবিধা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে আবাসন খাতের সাথে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে কিছুটা ভিন্নতা দেখতে পাওয়া যায়। অনেক বিনিয়োগকারী মনে করেন বিদেশে যেকোনো একটি বাড়ি কিনলেই হয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি মিলবে, যা সবসময় সত্যি নয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি অনুযায়ী এই আবাসন বিনিয়োগকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে উপস্থাপন করার নিয়ম রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, কানাডায় কেবল আবাসিক ঘরবাড়ি কেনার মাধ্যমে সরাসরি পিআর পাওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে স্টার্টআপ ভিসা, প্রোভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম (PNP) কিংবা বিজনেস ইনভেস্টর ট্র্যাকে প্রপার্টি ও বাণিজ্যিক মূলধন যুক্ত করে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে হয়। একইভাবে যুক্তরাজ্যে সরাসরি ব্যক্তিগত আবাসিক সম্পত্তি কেনার চেয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসা বা বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেটে মূলধন খাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পথ সুগম করা অনেক বেশি কার্যকরী।

আন্তর্জাতিক আবাসন বাজারে প্রপার্টি কেনার ক্ষেত্রে টাইটেল ডিড এবং ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের অফিশিয়াল ভ্যালুয়েশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দুবাইয়ের ক্ষেত্রে দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট (DLD) কর্তৃক সার্টিফাইড বাজারমূল্যই চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হয়, যা অবশ্যই ২০ লাখ দিরহাম বা তার বেশি হতে হবে। চুক্তিপত্র বা কেনাবেচার মূল্য যাই হোক না কেন, দলিলের সরকার অনুমোদিত মূল্যায়ন কম হলে ভিসার আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।

অতএব, প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের উচিত যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার নিবন্ধিত আইনজীবী ও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া। কাজের সুবিধার্থে প্রপার্টির হস্তান্তরের সময় ব্যাংকের ছাড়পত্র, ডেভেলপারের আগের কাজের ট্র্যাক রেকর্ড এবং ট্রান্সফার ফি সংক্রান্ত অতিরিক্ত খরচগুলো পূর্বেই হিসাব করে রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক আইন মেনে পরিকল্পনা করলে বিশ্বের নামীদামী শহরে নিজের সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্থায়ী রেসিডেন্সি নিশ্চিত করা সহজ হয়ে ওঠে।

বিদেশে প্রপার্টি কিনে গোল্ডেন ভিসা: দুবাই, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পিআর পাওয়ার সহজ নিয়ম

ইউরোপ ও এশিয়ায় বাড়ছে ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও

বিদেশে প্রপার্টি কিনে গোল্ডেন ভিসা: দুবাই, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পিআর পাওয়ার সহজ নিয়ম

বিশ্ব রাজনীতিতে ঐতিহাসিক মোড়: কানাডাকে সহযোগী সদস্য

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *