নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #শীর্ষ-৩

‘ইইউ সহযোগী সদস্যপদ’ বাস্তবায়নে কোন পথে হাঁটবে ব্রাসেলস ও অটোয়া?

কানাডাকে কৌশলগত অংশীদার করতে ইউরোপীয় কমিশনের উদ্ভাবনী প্রস্তাব ঘিরে শুরুতেই ইইউ সহযোগী সদস্যপদ নিয়ে বড় ধরনের আইনি সংশয় দেখা দিয়েছে। ব্রাসেলসের শীর্ষ কূটনৈতিক মহল থেকে ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা এলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল চুক্তিতে এ ধরনের কোনো পদের অস্তিত্বই নেই। বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন শুল্কনীতির চাপের মুখে এই অভূতপূর্ব চুক্তি বাস্তবে রূপ দেওয়া কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই এখন চলছে আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুচ্ছেদ ৪৯ (Article 49 TEU) অনুযায়ী কেবল ইউরোপ মহাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরের কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের আবেদন করতে পারে। অন্যদিকে ভৌগোলিক সীমানার বাইরে থাকা কানাডার জন্য যখন নতুন একটি কাঠামোর কথা বলা হলো, তখন পুরো বিষয়টি আইনি গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন বার্তা দিলেও খোদ ইউরোপীয় কূটনীতিকদের কাছে এই পদের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা অধিকার স্পষ্ট নয়।
সহজে বলতে গেলে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান সংবিধানে কোনো অ-ইউরোপীয় দেশকে অর্ধেক সদস্য বা আংশিক প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার মতো কোনো প্রস্তুত ধারা নেই। ফলে কেবল রাজনৈতিক ঘোষণার ওপর ভর করে কানাডাকে স্থায়ী সদস্য হিসেবে কোনো অধিকার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মূল সংবিধান পরিবর্তন করা অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী, ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল প্রক্রিয়া। তাই ইউরোক্যাটরা ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিচালনসংক্রান্ত চুক্তি’ (TFEU)-এর ২১৭ অনুচ্ছেদের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছেন। এই ধারা অনুযায়ী ইইউ যেকোনো আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক অধিকার ও বাধ্যবাধকতা বজায় রেখে বিস্তৃত ‘অংশীদারত্ব চুক্তি’ সম্পন্ন করতে পারে।
বাস্তবে এই ধারার অধীনে চুক্তি হলে প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি ও আর্কটিক সুরক্ষায় কানাডাকে নিবিড়ভাবে যুক্ত করা সম্ভব হবে। তবে এর মাধ্যমে কানাডা ইইউর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা আইন প্রণয়নে ভোটাধিকার পাবে না।
ইউক্রেন, মলদোভা বা আলবেনিয়ার মতো দেশগুলো বহু বছর ধরে কঠোর আইনি সংস্কার সম্পন্ন করে ইইউ সদস্যপদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভৌগোলিক সুবিধার বাইরে গিয়ে কানাডাকে কোনো সংক্ষিপ্ত উপায়ে ইইউ সহযোগী সদস্যপদ দেওয়া হলে এই প্রার্থী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এখানে বড় অনুঘটক। বাণিজ্য চুক্তি ‘সিইটিএ’ (CETA) স্বাক্ষরের এক দশক পার হতে চললেও ১০টি দেশ এখনো তা স্ব-স্ব পার্লামেন্টে অনুমোদন দেয়নি। ফলে কানাডার সঙ্গে নতুন কৌশলগত চুক্তি পাসের ক্ষেত্রেও ইইউর সব দেশের সর্বসম্মত সম্মতি পাওয়া সহজ হবে না।
‘ইইউ সহযোগী সদস্যপদ’ বাস্তবায়নে কোন পথে হাঁটবে ব্রাসেলস ও অটোয়া?

বিশ্ব রাজনীতিতে ঐতিহাসিক মোড়: কানাডাকে সহযোগী সদস্য

‘ইইউ সহযোগী সদস্যপদ’ বাস্তবায়নে কোন পথে হাঁটবে ব্রাসেলস ও অটোয়া?

ব্রেক্সিট বনাম কানাডা: কেন আটলান্টিক পেরিয়ে ইইউর

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *