নভেম্বর ৯, ২০২৬
#Uncategorized

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য ? ইইউ ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ?

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য? স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক ঘোষণা

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা কার্ডিফে এক বৈঠকে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে তিন দেশের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তুতির আহ্বান জানানো হয়েছে।

কী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে?

সোমবার কার্ডিফে স্বাক্ষরিত Memorandum of Understanding (MoU)-এ স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতারা বলেছেন, প্রত্যেক দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। তাঁরা যুক্তরাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, পরিকল্পনা করা এবং তা সহজতর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড—তিন জায়গাতেই এমন First Minister রয়েছেন, যারা যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানকারী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কারা স্বাক্ষর করেছেন?

ঘোষণাপত্রে যুক্ত ছিলেন—

জন সোয়িনি (John Swinney) — স্কটল্যান্ডের First Minister ও SNP নেতা
রুন আপ আইওরওয়ার্থ (Rhun ap Iorwerth) — ওয়েলসের First Minister ও Plaid Cymru নেতা
মিশেল ও’নিল (Michelle O’Neill) — উত্তর আয়ারল্যান্ডের First Minister ও Sinn Féin-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট

Sinn Féin-এর প্রেসিডেন্ট Mary Lou McDonald-ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্কটল্যান্ডের অবস্থান

স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার দাবি নতুন নয়। ২০১৪ সালে স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট হয়েছিল। এবার SNP নেতৃত্বাধীন পক্ষ আবারও ভবিষ্যতে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের সুযোগ চাচ্ছে।

নতুন ঘোষণায় স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছে।

ওয়েলসেও স্বাধীনতার দাবি জোরালো

ওয়েলসের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ Plaid Cymru-র নেতৃত্বে স্বাধীনতাপন্থী রাজনীতি এখন দেশটির সরকার পরিচালনার পর্যায়ে রয়েছে। মে ২০২৬-এর স্থানীয় নির্বাচনের পর Plaid Cymru প্রথমবারের মতো ওয়েলসের সরকারে নেতৃত্বের অবস্থানে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ‘United Ireland’ প্রশ্ন

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে মূল বিতর্ক হলো—বর্তমান যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে Republic of Ireland-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি United Ireland গঠিত হবে।

Sinn Féin দীর্ঘদিন ধরে Irish reunification-এর পক্ষে। মিশেল ও’নিল বলেছেন, এই ঐক্য নিয়ে বিতর্ক এখনো সক্রিয় এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকা উচিত।

ট্রাম্পের মন্তব্য কেন আলোচনায়?

এই রাজনৈতিক উদ্যোগের সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ড সফরের সময় Irish reunification-এর পক্ষে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও Republic of Ireland এক হয়ে যাওয়া তাঁর কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয় এবং এটি ভবিষ্যতে ঘটতে পারে।

এই মন্তব্য উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার প্রশ্ন

তিন রাজনৈতিক পক্ষের ঘোষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, তাঁদের দেশগুলোর ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে—যা Brexit-এর পর যুক্তরাজ্যের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পার্থক্য।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—২০১৬ সালের Brexit গণভোটে ওয়েলস সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে EU ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল, যদিও স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভোটের চিত্র ছিল ভিন্ন।

তাহলে কি যুক্তরাজ্য ভেঙে যাচ্ছে?

এ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন ঘটেনি।

যৌথ ঘোষণাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি নিজে থেকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস বা উত্তর আয়ারল্যান্ডকে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা করে দেয় না। তিনটি অঞ্চলই এখনো United Kingdom-এর সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ।

আর স্বাধীনতার গণভোট আয়োজনের প্রশ্নেও লন্ডনের কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ, ঘোষণাটি বিচ্ছেদের ঘোষণা নয়; বরং ভবিষ্যতে বিচ্ছেদ বা সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিকে সমন্বিত করার একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ।

 ঘোষণার গুরুত্ব কোথায়?

এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে কয়েকটি বিষয়—

১. তিনটি অঞ্চলের একযোগে অবস্থান
আগে স্বাধীনতা বা পুনর্মিলনের দাবিগুলো আলাদাভাবে এগিয়েছে। এবার তিন অঞ্চলের নেতৃত্ব একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছে।

২. সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবি
তারা শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার কথা বলেনি; যুক্তরাজ্য সরকারকে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে।

৩. Brexit-এর পর নতুন ইউরোপীয় প্রশ্ন
তিন পক্ষই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কথা বলছে।

৪. উত্তর আয়ারল্যান্ডের আলাদা সমীকরণ
স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্বাধীনতার প্রশ্নের সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে Irish reunification-এর প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে।

সামনে কী হতে পারে?

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—

* স্কটল্যান্ড কি নতুন স্বাধীনতা গণভোটের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেবে?
* ওয়েলসে স্বাধীনতার প্রশ্ন কতটা জনসমর্থন পাবে?
* উত্তর আয়ারল্যান্ডে Irish reunification নিয়ে গণভোটের দাবি কতটা এগোবে?
* লন্ডনের কেন্দ্রীয় সরকার এসব দাবির জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়?
* তিন অঞ্চলের রাজনৈতিক দলগুলো কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে?

ঘোষণাপত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা স্বাধীনতার গণভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপই হবে আসল পরীক্ষা।

এক নজরে

| বিষয় |                                          বর্তমান অবস্থা |
| ————————— | ——————————————- |
| স্কটল্যান্ড                              | স্বাধীনতার গণভোটের দাবি |
| ওয়েলস                                | স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক উদ্যোগ |
| উত্তর আয়ারল্যান্ড                | Irish reunification-এর দাবি |
| তিন অঞ্চলের যৌথ উদ্যোগ   | ঐতিহাসিক MoU স্বাক্ষর |
| যুক্তরাজ্য ভেঙে গেছে?          | না |
| স্বাধীনতা কার্যকর হয়েছে?     | না |
| গণভোটের নির্দিষ্ট তারিখ       | নির্ধারিত হয়নি |
| EU-এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক | তিন পক্ষই EU-কে ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করেছে |

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের নেতাদের যৌথ ঘোষণাপত্র যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে এটিকে এখনই “যুক্তরাজ্য ভেঙে যাচ্ছে” হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা ঠিক হবে না। এটি মূলত স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে সমন্বিত করে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরির একটি নতুন উদ্যোগ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *