ইইউ-কানাডা চুক্তি: গবেষক প্রবাসীদের স্পাউসকে ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের সুযোগ

উচ্চতর গবেষণায় আন্তর্জাতিক মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে স্পাউস ওয়ার্ক পারমিট ও পরিবার পুনর্বাসন সুবিধায় এক অভূতপূর্ব নমনীয়তা নিয়ে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার নতুন দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা। যৌথ এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে এখন থেকে ইউরোপ ও কানাডায় কর্মরত গবেষক প্রবাসীরা কোনো জটিল আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের পরিবারকে সাথে রাখার সুযোগ পাবেন। একই সাথে তাদের স্বামী বা স্ত্রী প্রথম দিন থেকেই ওপেন ওয়ার্ক পারমিটে কাজ করার অবাধ আইনি অধিকার উপভোগ করবেন।
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গবেষকদের অন্যতম প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ ছিল পরিবারের ভিসা জটিলতা। অনেক মেধাবী প্রবাসী গবেষক কেবল জীবনসঙ্গীর ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তার কারণে ভালো ভালো প্রজেক্টে যোগ দিতে দ্বিধাবোধ করতেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডা সরকারের এই নতুন সমঝোতা সেই পুরনো বাঁধাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিল। গবেষক যখনই কোনো নিবন্ধিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা গবেষণাগারে যোগ দেবেন, ঠিক তখনই তার সঙ্গীও সে দেশে কাজ করার পূর্ণ আইনি অনুমতি পেয়ে যাবেন।
উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ফলাফল মূলত নির্ভর করে গবেষকের মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক স্থিতিশীলতার ওপর। বৈশ্বিক এই উদ্যোগটি প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার সঙ্গী যদি আইটি, ফাইন্যান্স, শিক্ষাসেবা কিংবা যেকোনো পেশায় দক্ষ হন, তবে তিনি সরাসরি সে দেশের সাধারণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারবেন। ফলে নতুন কোনো দেশে গিয়ে পুরো পরিবারের আর্থিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
নতুন এই দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর অধীনে যৌথ পিএইচডি, পোস্ট-ডক্টরাল বা ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া সবাই এই সুযোগ পাবেন। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ইইউ ও কানাডা সরকার একক ডিজিটাল পোর্টাল সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
গবেষণার অফিসিয়াল লেটারের পাশাপাশি বৈবাহিক সম্পর্ক ও পারিবারিক কাগজপত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে ভিসা ইস্যুর সময় অনেকটাই কমে আসবে। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আবেদন জমা দিলে অনায়াসেই এই স্পাউস ওয়ার্ক পারমিট সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।











