প্রবাসী নারী বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের ভাগ্য বদলাচ্ছে হরাইজন ইউরোপ প্রকল্প

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হরাইজন ইউরোপ প্রকল্প এর আওতায় প্রবাসী নারী বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য বিশেষ গবেষণা সুযোগের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডা। এই দুই পরাশক্তির সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারে নারীদের কাজ করার পথ আরও সুগম হলো। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে প্রবাসে থাকা মেধাবী নারী গবেষকদের যুক্ত করতেই এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফ্ল্যাগশিপ গবেষণা প্রোগ্রাম হিসেবে পরিচিত এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের চেহারা বদলে দিচ্ছে। কানাডার এই কর্মসূচিতে পূর্ণাঙ্গ সহযোগী সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রার যোগসূত্রের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে যেসব প্রবাসী নারী বিজ্ঞানী ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, তারা এখন যৌথভাবে প্রজেক্ট লিড করার সুযোগ পাবেন। বিশ্বমানের প্রযুক্তি অবকাঠামো এবং গবেষণাগার ব্যবহারের এই অবাধ স্বাধীনতা নারীদের পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনে সাহায্য করবে।
সাধারণত উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে প্রবাসী নারী বিজ্ঞানীরা নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। ল্যাবরেটরি পরিবর্তনের জটিলতা কিংবা সন্তান লালন-পালনের চ্যালেঞ্জ অনেক সময় তাদের মাঝপথেই কাজ থামিয়ে দিতে বাধ্য করে।
নতুন এই সহযোগিতামূলক কাঠামো সেসব বাধা দূর করতে নানামুখী সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নিশ্চিত করেছে। গবেষকরা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদী প্রজেক্টে মনোযোগ দিতে পারেন, সেজন্য ল্যাবরেটরি গ্রান্টের পাশাপাশি বিশেষ পারিবারিক ভাতা বরাদ্দ করা হচ্ছে।
গবেষণার জগতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হরাইজন ইউরোপ প্রকল্প এর প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টালে সরাসরি প্রপোজাল জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাক-নির্ধারিত যোগ্যতা ও মানদণ্ড বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ কমিটি যৌথ আবেদনগুলো মূল্যায়ন করবে।
প্রাক-বিদ্যমান কোনো গবেষণাপত্র বা সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরতে পারলে ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ইউরোপ ও কানাডার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত প্রবাসী নারী বিজ্ঞানীদের ক্যারিয়ারে এক নতুন রূপালী অধ্যায়ের সূচনা করল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা কানাডায় কর্মরত বা বসবাসরত যেকোনো প্রবাসী নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উচ্চতর ডিগ্রিধারী গবেষক এ কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। পরিবেশ ও টেকসই প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, উন্নত মহাকাশ গবেষণা এবং জীবনরক্ষাকারী বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখাগুলোতে সবচেয়ে বেশি তহবিল প্রদান করা হচ্ছে।











