ইইউ-কানাডা চুক্তি: ই-কমার্স ও বাণিজ্যে প্রবাসীদের মিলবে শুল্ক ছাড়

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ফলে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় পরিচালিত ক্ষুদ্র প্রবাসীদের শুল্ক সুবিধা এবং ই-কমার্স ব্যবসায় তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক এক সুযোগ। কৌশলগত এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রবাসী উদ্যোক্তারা এখন থেকে দুই মহাদেশের মধ্যে পণ্য আদান-প্রদানে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও সরলীকৃত কাস্টমস সুবিধা পাবেন। এর ফলে ক্ষুদ্র প্রবাসী ব্যবসায়ীদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ব্যবসা প্রসারিত করা অনেক সহজ হবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এতদিন প্রধান বাধা ছিল উচ্চমাত্রার ট্যারিফ ও জটিল শুল্ক নীতি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও কানাডায় বসবাসরত বহু বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এই আমলাতান্ত্রিক জালে পড়ে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারেননি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডা সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ই-কমার্স বাণিজ্যের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে। নতুন এই শুল্ক নীতি কার্যকর হওয়ায় এখন অল্প পুঁজিতেই ইউরোপ ও কানাডার অভ্যন্তরীণ বাজারে নিজস্ব উৎপাদিত বা আমদানিকৃত পণ্য সরবরাহ করা যাবে।
ই-কমার্স ও ক্রসবর্ডার ডেলিভারি এখন বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। যেসব প্রবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা কানাডায় অনলাইন শপ, এশিয়ান গ্রোসারি, পোশাক কিংবা হস্তশিল্পের ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তারা এই চুক্তির সরাসরি সুবিধাভোগী হবেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে খুব সহজেই কাস্টমস কাগজপত্র অনলাইনে প্রসেস করার সুযোগ থাকছে। শিপিং চার্জ এবং অতিরিক্ত করের বোঝা কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতারাও কম দামে পণ্য কেনাকাটা করতে পারবেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রবাসীরা যাতে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিতে পারেন, সেজন্য উভয় অঞ্চলের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আলাদা সাহায্যকারী ডেস্ক চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেকোনো ধরণের জটিলতায় উদ্যোক্তারা সরাসরি অনলাইন সাপোর্ট পাবেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হলে এই ক্ষুদ্র প্রবাসীদের শুল্ক সুবিধা সংক্রান্ত নিয়মকানুন ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। সঠিক তথ্য ও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া মেনে চললে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ইউরোপ-কানাডা ই-কমার্স বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ড দাঁড় করাতে সফল হবেন।
ইইউ বা কানাডায় নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ই-কমার্স ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কাস্টমস পোর্টালে তাদের ইওআরআই (EORI) নম্বর বা বিজনেস আইডি আপডেট করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ট্যারিফ মওকুফ সুবিধা পেতে পারেন। সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক ফ্রি-ট্রেড সীমা পর্যন্ত কাস্টমস ডিউটি শূন্য থাকবে। তবে বৃহৎ বাণিজ্যিক চালানের ক্ষেত্রে সাধারণ ট্রেড পলিসির নিয়ম প্রযোজ্য হবে।যদি কোনো প্রবাসী বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা কানাডায় বৈধভাবে বাজারজাত করেন এবং পরবর্তীতে তা অন্য অঞ্চলে পাঠান, তবে নির্ধারিত ভ্যালু-এডিশন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শুল্ক সুবিধা পাবেন।











