নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর গল্প #শ্রমবাজার #সংগ্রাম

প্রবাসীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ঘাটতি: দক্ষ প্রবাসীদের তুলনায় অদক্ষদের বড় অঙ্কের বেতন বৈষম্য

বৈদেশিক কর্মসংস্থানে প্রবাসীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়ত বৈশ্বিক শ্রমবাজারে অন্যান্য দেশের কর্মীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশি অভিবাসীরা। প্রতি বছর দেশ থেকে রেকর্ডসংখ্যক সাধারণ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে গেলেও আন্তর্জাতিক মানের ভাষা দক্ষতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক পেশাগত প্রাতিষ্ঠানিক সনদ না থাকায় তারা সর্বনিম্ন মজুরির কাজগুলোতে বাধ্য হয়ে যোগ দিচ্ছেন। ফলে সংখ্যার দিক থেকে জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত রেমিট্যান্স আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বিশ্বজুড়ে এখন ম্যানুয়াল বা শারীরিক শ্রমের চেয়ে কগনিটিভ স্কিল ও কারিগরি দক্ষতার মূল্য অনেক বেশি। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ কিংবা মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে এখন নির্মাণ শ্রমিকের পাশাপাশি নার্স, আইটি স্পেশালিস্ট, মেকানিক এবং আধুনিক অটোমেশন প্রযুক্তিতে পারদর্শী কর্মীদের চাহিদা তুঙ্গে।

দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া অধিকাংশ শ্রমিকই সেখানে গিয়ে অন-দ্য-জব ট্রেনিং বা কাজের ফাঁকে শেখার চেষ্টা করেন। এর ফলে তারা কর্মজীবনের পুরোটা সময়ই প্রাথমিক স্তরের সর্বনিম্ন স্কেলের মজুরিতে আটকে থাকেন। সঠিক পরিকল্পনা ও ভাষা শেখার তাগিদ না থাকলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন অসম্ভব।

অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা শ্রমিক পাঠানোর আগেই নির্দিষ্ট দেশের কর্ম পরিবেশ, ভাষা এবং প্রযুক্তির ওপর বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেট কোর্স করায়। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত টিটিসি (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার) থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা এবং দালাল চক্রের তাড়াহুড়োর কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই ভিসা প্রক্রিয়াকরণ করে ফেলে।

আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে কেবল পাসপোর্ট ও টিকিট বিক্রির মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিদেশে পাঠানোর আগে প্রতিটি কর্মীকে আধুনিক আইটি, ল্যাঙ্গুয়েজ এবং মেকানিক্যাল ট্রেনিংয়ের আওতায় আনা এখন জাতীয় অর্থনীতি বাঁচানোর স্বার্থেই জরুরি।

প্রবাসীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ঘাটতি: দক্ষ প্রবাসীদের তুলনায় অদক্ষদের বড় অঙ্কের বেতন বৈষম্য

সেকেন্ড হোম ভিসা: কেন শীর্ষ ধনী বাংলাদেশিদের

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *