সেকেন্ড হোম ভিসা: কেন শীর্ষ ধনী বাংলাদেশিদের পছন্দ দুবাই?

অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের খোঁজে বাংলাদেশ থেকে মূলধন ও সম্পদ স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে দুবাইতে সেকেন্ড হোম এবং ইনভেস্টর ভিসা অর্জনে আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বর্তমানে শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী, উচ্চপদের পেশাজীবী এবং প্রবাসীরা বিনিয়োগের নিরাপদ ঠিকানা হিসেবে দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। করমুক্ত আয়, মুদ্রার স্থায়িত্ব এবং সহজে দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সি সুবিধা এই ঝোঁক বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিগত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের প্রপার্টি কেনার পরিসংখ্যান দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজনেস বে, ডাউনটাউন দুবাই, ঝুমেইরা ভিলেজ সার্কেল (JVC) এবং ইন্টারন্যাশনাল সিটির মতো এলাকাগুলোতে বিনিয়োগে বাংলাদেশি ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ধারাবাহিক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, ব্যবসায়িক ঝুঁকি এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব এড়াতে অনেকেই বিশ্বমানের জীবনযাত্রার দিকে ঝুঁকছেন। ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় দুবাই ভৌগোলিক দিক থেকে কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াতের সুবিধাও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রেসিডেন্সি আইন শিথিল করার উদ্যোগ বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে। আবাসন খাতে ২০ লাখ দিরহামের বিনিয়োগেই মিলছে ১০ বছরের সরাসরি গোল্ডেন রেসিডেন্সি ভিসা।
এর ফলে প্রধান বিনিয়োগকারী নিজের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান এমনকি গৃহকর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভিসার আবেদন করতে পারছেন। অন্যদিকে সাশ্রয়ী বাজেটের ক্রেতাদের জন্য ৭৫০,০০০ দিরহামের বিনিয়োগে ৩ বছর বা ২ বছর মেয়াদী বিনিয়োগকারী ভিসার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।
কেবল বসবাসের জন্যই নয়, দুবাইকে ব্যবসায়ের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে গড়ে তুলতেই ধনী বাংলাদেশিরা একে দুবাইতে সেকেন্ড হোম বানানোর মাধ্যম বানাচ্ছেন। ১০০% নিজস্ব মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সরাসরি সুফল এতে যুক্ত হচ্ছে।
তবে মূলধন হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রক নীতি মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সবমিলিয়ে আর্থিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের জীবনমানের মেলবন্ধনে দুবাই এখন বাংলাদেশি ধনকুবেরদের প্রথম পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে।











