লন্ডন-নিউ ইয়র্কে ফুড ট্রাক ব্যবসা করে মাসে কত টাকা আয় সম্ভব?

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অনেকেই এখন বিদেশে ফুড ট্রাক ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হচ্ছেন, বিশেষ করে লন্ডন বা নিউ ইয়র্কের মতো বৈশ্বিক শহরগুলোতে। বড় কোনো রেস্টুরেন্ট খোলার মোটা অঙ্কের বিনিয়োগের বদলে ছোট একটি ট্রাকে করে দেশীয় বা ফিউশন ফুডের স্বাদ ছড়িয়ে দেওয়া এখন বেশ লাভজনক এক বাণিজ্যিক মডেল।
তবে এই ব্যবসায় নামার আগে শহরের স্থানীয় কাউন্সিল কিংবা নগর কর্তৃপক্ষের আইনি অনুমোদন ও খাদ্য নিরাপত্তার নীতিমালা জানা অত্যাবশ্যক। সঠিক পরিকল্পনা ও বৈধ লাইসেন্স নিয়ে নামলে এই খাতেই মিলতে পারে চোখধাঁধানো আয়ের সুযোগ।
বিদেশের মাটিতে স্ট্রিট ফুডের বাজার যতোটাই সম্ভাবনাময়, এর আইনি প্রক্রিয়া ততোটাই কঠোর। নিউ ইয়র্ক সিটিতে ব্যবসা করতে হলে ‘মোবাইল ফুড ভেন্ডর লাইসেন্স’ এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্পটে পার্কিংয়ের পারমিটও লাগে। অন্যদিকে লন্ডনে কাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট ‘লোকাল কাউন্সিল’-এ ফুড বিজনেস রেজিস্টার করা আবশ্যক।
হেলথ অ্যান্ড হাইজিন টেস্ট পাস করা অন্যতম প্রধান শর্ত। মোবাইল কিচেন বা ট্র্যাকিং ভ্যানের রান্নার পরিবেশ নিয়মিত পরীক্ষা করে সিটি অথরিটির ইন্সপেক্টররা গ্রিন সিগন্যাল দিলেই কেবল বিক্রি শুরু করা যায়।
প্রথাগত রেস্টুরেন্টের তুলনায় বিদেশে ফুড ট্রাক ব্যবসা শুরু করতে মূলধন বেশ কম লাগে। সাধারণত একটি ভালো মানের ব্যবহৃত ফুড ট্রাক কেনা, সেটাকে রান্নাঘরের উপযোগী করা এবং প্রাথমিক পারমিট নিতে প্রায় ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার বা পাউন্ডের মতো বাজেটের প্রয়োজন হয়।
ব্যবসার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে সঠিক স্থান নির্বাচনে। শহরের কর্মব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের পার্কগুলোর পাশে ট্রেইলার দাঁড় করালে বিক্রি দ্রুত গতি পায়। ভালো একটি লোকেশনে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ২০০ জন কাস্টমার পেলেই দিনশেষে দারুণ লভ্যাংশ পকেটে ওঠে।
স্ট্রিট ফুডের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। ফলে অন্য দশটা সাধারণ মেন্যু দিয়ে বাজার ধরা কঠিন। ট্রেডিশনাল বাঙালি খাবার যেমন ঝালমুড়ি, ফুচকা বা বিফ কাচ্চির পাশাপাশি স্থানীয়দের রুচির কথা মাথায় রেখে ফিউশন আইটেম রাখতে পারেন।
ডিজিটাল মার্জিন নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে প্রতিদিনের লোকেশন আপডেট এবং লাইভ কুকিং শেয়ার করলে কাস্টমাররা সহজেই ট্রাকের অবস্থান খুঁজে পায়। এভাবে ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তুললে পরবর্তীতে স্থায়ী ক্যাফে বা রেস্টুরেন্ট চালুর পথও সুগম হয়।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে ক্যাটাগরি ভেদে ফুড ভেন্ডর পারমিট পেতে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে লন্ডনে লোকাল কাউন্সিলে ফুড বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সাধারণত ২৮ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়। অনেক সিটিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে ফুড ট্রিপ শুরুর আগের ভারী প্রিপারেশন (যেমন মাংস মেরিনেট বা কাটিং) কোনো সার্টিফাইড ‘কমিশারি কিচেন’ বা কমার্শিয়াল স্পেসে করার নিয়ম থাকে। কিছু জায়গায় সম্পূর্ণ রান্না ট্রাকে করার অনুমোদিত অবকাঠামো থাকলে আলাদা কিচেন লাগে না। এখানে আয় মূলত লোকেশন, খাবারের দাম ও সিজনের ওপর নির্ভর করে। তবে ভালো একটি জায়গায় প্রতিদিন ট্র্যাকিং চালু রাখতে পারলে মাসে গড়ে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার বা পাউন্ড পর্যন্ত নিট মুনাফা করা সম্ভব।











