বিদেশে লাইসেন্সিং ও কাজের সুযোগ: কেন জরুরি সিডনি ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড স্বীকৃত ডিগ্রি?

বিশ্বজুড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি ডিগ্রি প্রাপ্তির পর সরাসরি আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে সিডনি ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা কাঠামোর অধীন মানসম্মত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিদেশের মাটিতে কাজের জন্য প্র্যাকটিস লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ পান। তবে অনুমোদনহীন কিংবা শর্ত পূরণ না করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত ডিগ্রি নিয়ে বিদেশের মাটিতে ক্রেডিট ট্রান্সফার ও লাইসেন্সিং ভাইভায় বড় ধরণের জটিলতার মুখে পড়ছেন অনেকেই।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু ডিপ্লোমা বা ডিগ্রির সনদ থাকলেই পেশাদার কর্মী হিসেবে কাজ করা যায় না। আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি মানদণ্ড অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার মান তদারকি করে সিডনি ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড। কোনো শিক্ষার্থী যখন এই আন্তর্জাতিক চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা শেষ করে, তখন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার মতো দেশে তার অর্জিত ডিগ্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক সমমানের মর্যাদা পায়।
এর ফলে ডিগ্রিধারী তরুণ ইঞ্জিনিয়ার ও পেশাজীবীদের বিদেশে পেশাগত লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। স্থানীয় প্রকৌশলী বোর্ডের পরীক্ষা ও নিয়মকানুন পেরিয়ে তারা সরাসরি আন্তর্জাতিক টেকনিক্যাল প্রজেক্ট ও পেশায় যুক্ত হতে পারেন।
অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, ল্যাব সুবিধা এবং আউটকাম-বেসড এডুকেশন (OBE) পাঠ্যক্রম থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক শিক্ষার্থী না জেনেই অনুমোদনহীন বা বিশ্বমানের অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অনিবন্ধিত ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।
পরবর্তীতে বিদেশে ক্রেডিট ট্রান্সফারের আবেদন করলে তাদের আগের অর্জিত কোর্স ক্রেডিট বাতিল ঘোষণা করা হয়। শুধু তাই নয়, সিডনি ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড কাঠামো অনুসরণ না করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিদেশের পেশাদারি লাইসেন্সিং ভাইভায় বসলে বোর্ডের মূল মূল্যায়নে তারা যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হন। ফলে বছরের পর বছর পড়াশোনা এবং বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে তাদের ক্যারিয়ার স্থবির হয়ে পড়ে।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যেকোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগেই বোর্ডের আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (IEB) এবং এর আওতায় পরিচালিত অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (BAETE) আন্তর্জাতিক অ্যাকর্ডগুলোর সাথে যুক্ত থেকে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের মান বাড়াতে কাজ করছে।
বিশ্বমানের পেশাজীবী হতে হলে কেবল ডিগ্রির কাগজের ওপর নির্ভর না করে গ্লোবাল স্ট্যান্ডারাইজড কারিকুলাম ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করাই দূরদর্শী পদক্ষেপ।











