নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর গল্প

বিদেশে জমানো পেনশন কি নিরাপদে দেশে আনা সম্ভব?

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য পেনশন পোর্টেবিলিটি একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা প্রবাসে অর্জিত সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল নিরাপদে নিজ দেশে বা অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করে। তবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তি না থাকলে এই অর্থ স্থানান্তরের সময় অতিরিক্ত কর কাটা পড়ার তীব্র ঝুঁকি থেকে যায়। সঠিক আইনি কাঠামো এবং স্পষ্ট আন্তর্জাতিক নীতিমালার অভাবে অনেক প্রবাসীর আজীবনের সঞ্চয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে পড়ে।

উন্নত বিশ্বে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সামাজিক নিরাপত্তা ফান্ডের জন্য কেটে রাখা হয়। কর্মজীবন শেষে বা স্থায়ীভাবে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় সেই অর্থ নিজের দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়াকেই আন্তর্জাতিক পেনশন পোর্টেবিলিটি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

এই ব্যবস্থার কারণে প্রবাসীরা বছরের পর বছর কষ্ট করে অর্জিত ক্যাপিটাল হারানো থেকে রক্ষা পান। যখন একজন প্রবাসী নিশ্চিত হন যে তার জমানো টাকা যেকোনো সময়ে আইনি উপায়ে দেশে ফেরত আনা সম্ভব, তখন তার ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও মানসিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়ে যায়।

অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের প্রবাসীরা অর্জিত পেনশন ফান্ড নিজ দেশে ফেরত আনতে গিয়ে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হন। কর্মসংস্থানকারী দেশ এবং কর্মী প্রেরণকারী দেশের মধ্যে যদি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না থাকে, তবে স্থানান্তরিত ফান্ডের ওপর দ্বিগুণ ট্যাক্স বা ডাবল ট্যাক্সেশন আরোপ করা হয়।

একটি রাষ্ট্রে আয়ের ওপর আয়কর দেওয়ার পর ফান্ড উত্তোলনের সময় পুনরায় বিশাল অংকের কর কেটে নিলে প্রবাসীদের সঞ্চয় অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী নীতি না থাকলে সাধারণ অভিবাসী কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

গ্লোবাল পেনশন পোর্টেবিলিটি প্রক্রিয়া সহজ করতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথমত, প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল অর্থ স্থানান্তর প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফান্ডের লেনদেন খরচ কমাতে হবে।

এর পাশাপাশি ট্যাক্স ছাড়ের স্পষ্ট বিধান রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যেন কোনো অবস্থাতেই একজন কর্মীকে একই ফান্ডের জন্য দুইবার কর পরিশোধ করতে না হয়। সরকারি পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল প্রবাসীদের এই অধিকার ও সুবিধা সুনিশ্চিত করা সম্ভব।

বিদেশে জমানো পেনশন কি নিরাপদে দেশে আনা সম্ভব?

দেশে না এসেও মিলবে জমিজমার সুরক্ষা: প্রবাসীদের

বিদেশে জমানো পেনশন কি নিরাপদে দেশে আনা সম্ভব?

জাহাজের লস্কর থেকে ‘লন্ডনি’: সিলেটিদের অভিবাসনের অচেনা

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *