প্রবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স: সুবিধা ও চ্যালেঞ্জের সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে কর্মরত লক্ষাধিক বাংলাদেশির জন্য প্রবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থার প্রয়োগ নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা যেকোনো শারীরিক জটিলতায় ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ যেমন প্রবাসী কর্মীদের স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি বাধ্যতামূলক প্রিমিয়ামের কারণে প্রতি মাসে হাতের নগদ আয় কিছুটা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী জীবন সুরক্ষার সুবিধার পাশে তাৎক্ষণিক বেতনের প্রভাব নিয়েই এখন হিসাব-নিকাশ করছেন প্রবাসীরা।
বিদেশের মাটিতে হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা প্রবাসী শ্রমিকদের সারা জীবনের সঞ্চয় নিমেষেই শেষ করে দিতে পারে। সরকার নিয়ন্ত্রিত এই সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স স্কিমগুলো মূলত সে ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
কর্মক্ষেত্রে যেকোনো সময় বিপদ ঘটলে এই ব্যবস্থার অধীনে চব্বিশ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি বা পঙ্গুত্ব বরণ করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ফান্ড থেকে নিয়মিত মাসিক ভাতা বা এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়ায় প্রবাসীদের পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।
সোশ্যাল ইনস্যুরেন্স স্কিমের ভালো দিক থাকলেও প্রবাসীদের একাংশ মাসিক বেতন থেকে প্রিমিয়াম কাটার বিষয়টি নিয়ে কিছু উদ্বেগে থাকেন। প্রতি মাসে নিট বেতন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ক কর্তন সরকারি ইনস্যুরেন্স ফান্ডে জমা হওয়ায় হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ কিছুটা কমে যায়।
বিশেষ করে যারা নির্ধারিত নিম্ন আয়ের চুক্তিতে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি সাময়িক আর্থিক টানাপোড়েন তৈরি করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক নগদ টাকা কিছুটা কম হলেও সামগ্রিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে সম্প্রতি স্থানীয় শ্রম আইনে সোশ্যাল সিকিউরিটি বাধ্যবাধকতা জোরদার করা হয়েছে। মালিকপক্ষ ও কর্মী উভয়ের যৌথ অংশগ্রহণে সংগৃহীত এই প্রিমিয়াম ফান্ড স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই কাঠামোর পূর্ণ সুফল পাওয়া সহজ হবে। শেষ পর্যন্ত প্রবাসীদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই উদ্যোগগুলো বিদেশের মাটিতে রক্তঘাম ঝরানো কর্মীদের অনিশ্চয়তা দূর করে একটি মানবিক জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা জোগাবে।











