বাংলাদেশি নার্সদের জন্য আন্তর্জাতিক দুয়ার উন্মোচন করছে নতুন ‘নার্সিং রিকগনিশন ফ্রেমওয়ার্ক’

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাংলাদেশি ডিপ্লোমা ও বিএসসি নার্সদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে প্রবর্তিত নার্সিং রিকগনিশন ফ্রেমওয়ার্ক ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত দেশগুলোতে সরাসরি চাকরির অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নতুন এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশীয় বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রির মান বৈশ্বিক সমকক্ষতা পাওয়ায় নিবন্ধিত নার্সরা এখন সরাসরি রেজিস্টার্ড নার্স (RN) হিসেবে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভাষার বাধা এবং আন্তর্জাতিক প্রফেশনাল পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে কেয়ারগিভার বা তার নিচের পদে কাজ করার বড় ধরনের ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে মানসম্পন্ন নার্সের সংকট দেখা দেওয়ায় ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য উন্নত অবকাঠামো গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক নার্সদের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। এই বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশি নার্সিং শিক্ষাক্রমকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে রূপান্তর করতে এই নতুন রূপরেখা সাহায্য করছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই যোগ্যতার মাধ্যমে বাংলাদেশি নার্সরা এখন থেকে নিজেদের দেশীয় অভিজ্ঞতা সরাসরি উন্নত দেশে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে পূর্বে যেসব ভিসা ও ডিগ্রির জটিলতার কারণে প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়তেন, সেই প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই দূর হয়ে আসছে।
বৈশ্বিক চাকরির বাজারে সরাসরি যোগদানের সুযোগ এলেও আন্তর্জাতিক পরীক্ষার বাধা অতিক্রম করা প্রতিটি প্রার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে কাজ করতে হলে CBT ও OET এবং উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ হাসপাতালে NCLEX-RN পাস করা অপরিহার্য।
পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে অথবা ভাষার দক্ষতা সিএলবি (CLB) বা ব্যান্ড স্কোর অনুযায়ী প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হলে প্রার্থীদের আর নার্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় না। ফলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে তাদের স্বাস্থ্যখাতের একদম নিচের স্তরের কেয়ারগিভার বা নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করতে হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে সফল হতে কেবল একাডেমিক সনদই যথেষ্ট নয়; বরং ক্লিনিক্যাল দক্ষতা ও যোগাযোগ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশ্বমানের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সাথে যোগাযোগের ভাষা ও পেশাগত নীতিমালা ব্যাপকভাবে ভিন্ন হয়ে থাকে।
দেশেই আন্তর্জাতিক সিলেবাস অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া এবং ইংরেজি ভাষার প্রতিটি মডিউলে সমান দক্ষতা অর্জন করা এখন সময়ের দাবি। সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া বিদেশে পাড়ি জমালে কাঙ্ক্ষিত পেশাগত সাফল্য ও সম্মান অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।











