পাসপোর্টে স্টিকার বিলুপ্তি: শুরু হচ্ছে বায়োমেট্রিক ই-ভিসা ট্রানজিশন

যুক্তরাজ্য ও সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কাগুজে স্টিকার ভিসার দিন শেষ হতে চলায় বায়োমেট্রিক ই-ভিসা ট্রানজিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরোপুরি ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে বিশ্ব ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা।
এখন থেকে যাত্রীদের পাসপোর্টে আলাদা কোনো ভিসার পাতলা কাগজ বা স্টিকার যুক্ত করার ঝক্কি পোহাতে হবে না, বরং নিজের স্মার্টফোনেই সব ডিজিটাল ভিসা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা যাবে। এই যুগান্তকারী পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বিমানভ্রমণকে যেমন দ্রুত ও নিরাপদ করবে, তেমনি যাত্রীদের জন্য নিয়ে এসেছে নতুন কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও।
আন্তর্জাতিক সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ করতেই মূলত বায়োমেট্রিক ই-ভিসা চালুর প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এখন আর কোনো এম্বাসি বা পাসপোর্ট সেন্টারে দীর্ঘ দিন পাসপোর্ট জমা রেখে ভিসা পেপার স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়বে না। আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ই-ভিসার ডেটা সরাসরি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা থাকে।
ফলাফলস্বরূপ, কোনো আন্তর্জাতিক যাত্রী বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় পাসপোর্ট স্ক্যান করলেই দায়িত্বরত কর্মকর্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই ভিসার বৈধতা যাচাই করতে পারবেন। এতে যেমন ভূয়া ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার সুযোগ কমবে, তেমনি ভ্রমণ প্রক্রিয়া বহুগুণ সহজ হবে।
ইউকে ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভ্রমণকারীদের জন্য এই ব্যবস্থা একদিকে যেমন স্বস্তিদায়ক, অন্যদিকে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকিও তৈরি করছে। পেপার স্টিকার সঙ্গে না থাকায় দৈনন্দিন যাতায়াত এবং বর্ডার পারাপার অনেক হালকা ও চাপমুক্ত মনে হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার পুরোটাই যেহেতু অনলাইন ডেটাবেজের ওপর নির্ভরশীল, তাই প্রযুক্তির কোনো বিভ্রাট বড় বিড়ম্বনা ঘটাতে পারে।
যদি কোনো কারণে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের সিস্টেম বা সংশ্লিষ্ট দেশের বর্ডার কন্ট্রোল সেন্ট্রাল সার্ভারে সমস্যা দেখা দেয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় যাচাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রকৃত বৈধ ভিসা থাকার পরও ডাটাবেজে ম্যাচ না করায় তাৎক্ষণিকভাবে বোর্ডিং পাস বাতিল বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে এই ধরনের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মানিয়ে নিতে যাত্রীদের আগাম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় নিজ নিজ প্রোফাইলের ডিজিটাল কপির ব্যাকআপ ফোনে রাখা বা যেকোনো জরুরি যোগাযোগের তথ্য প্রস্তুত রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের এই উদ্যোগে সফল হলে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশও দ্রুত পেপার স্টিকার পুরোপুরি তুলে দেবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় এয়ারলাইনসগুলোর চেক-ইন কাউন্টারে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন কোনো যাত্রী নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে না পড়েন।
নতুন এই ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের সেনজেন এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের যাতায়াত আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ হবে। পাসপোর্ট চুরি বা ভিসা পাতা নষ্ট হওয়ার যে আতঙ্ক আগে ছিল, তা অনেকাংশে কমে আসবে।
তবে প্রথম অবস্থায় প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের ঘটনা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ হেল্পডেস্ক রাখা প্রয়োজন। সার্বিকভাবে, ডিজিটালাইজেশনের এই নতুন যুগ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে শুরু করেছে।











