প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি শুরু: আবেদনের শেষ সময় ২৪ নভেম্বর

প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। প্রবাসীদের রক্তঘাম করা উপার্জনে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও তাঁদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা অনেক সময় নজরএড়িয়ে যায়। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এই বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী মেধাবী শিক্ষার্থীদের আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যাদিসহ অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে অভিবাসী শ্রমিকদের অবদানের কোনো বিকল্প নেই। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে তাঁরা যে রেমিট্যান্স পাঠান, তাতেই দেশের অবকাঠামো ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়। তবে বিদেশের মাটিতে কঠিন পরিস্থিতিতে দিন কাটানো প্রবাসীদের পরিবারকে অনেক সময় দেশে আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাড়তি খরচের চাপ তাঁদের ভাবিয়ে তোলে।
এমতাবস্থায় প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি চালু রাখার সিদ্ধান্ত অভিবাসী পরিবারগুলোর আর্থিক উদ্বেগ কিছুটা হলেও হ্রাস করবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসএসসি, এইচএসসি, ডিপ্লোমা ও সমমানের পড়াশোনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির সুফল পাবে।
নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষাবৃত্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। মূলত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধিত বৈধ কর্মী অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ পাওয়া প্রবাসী কর্মীদের ছেলেমেয়েরা এতে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া কর্মস্থলে মারা যাওয়া কর্মীদের পরিবারের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের সন্তানদেরও এই আওতায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রাখা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জিপিএ পাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরির পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নিতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা সহজ হবে।
আবেদন প্রক্রিয়াটি শতভাগ ডিজিটালাইজড করায় প্রার্থীদের সশরীরে বোর্ডে বা কোনো কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে না। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অফিশিয়াল পোর্টালে (portal.wewb.gov.bd) প্রবেশ করে নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনের সময় প্রার্থীর ছবি, স্বাক্ষর, ব্যাংকের নাম ও রাউটিং নম্বরসহ স্টেটমেন্ট এবং অভিভাবকের বৈধ পাসপোর্টের কপি আপলোড করতে বলা হয়েছে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, ভুল তথ্য প্রদান করলে বা তথ্যে গরমিল পাওয়া গেলে আবেদনটি সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে না পড়ে শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে পোর্টালে গিয়ে সরাসরি ফরম পূরণের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
২৪ নভেম্বর আবেদন জমা নেওয়ার শেষ সময় হলেও শেষ মুহূর্তের অনলাইন সার্ভার জটিলতা এড়াতে দ্রুত ফরম পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবৃত্তির বরাদ্দ সরাসরি বিজয়ী প্রার্থীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা পড়ালেখার খরচ চালাতে দারুণ সহায়তা করবে। প্রবাসী কল্যাণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের শিক্ষাবৃত্তি শুধু প্রবাসীদের অবদানকেই সম্মানিত করে না, বরং তাঁদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।











