পূর্ব ইউরোপে প্রবাসীদের সমপরিমাণ বেতনের সুযোগ: ভাষা না জানলে ফিরতে হবে খালি হাতে

ইউরোপে শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পূর্ব ইউরোপে কাজের সুযোগ এখন এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। রোমানিয়া ও হাঙ্গেরির মতো বিকাশমান অর্থনীতিগুলোতে ‘ফেয়ার পে কমপ্লায়েন্স’ বা সমপরিমাণ বেতন আইন কার্যকর হওয়ায় প্রবাসী শ্রমিকেরা স্থানীয় নাগরিকদের সমান সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এই বিশাল সুযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাষা ও দক্ষতার কড়া শর্ত, যা পূরণ না করলে চুক্তি শেষে দেশে ফিরতে হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনুসরণ করে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো এখন শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বেশ কঠোর। রোমানিয়া ও হাঙ্গেরিতে প্রবাসীদের জন্য বাস্তবায়িত ‘ফেয়ার পে কমপ্লায়েন্স’ ব্যবস্থাটি মূলত বিদেশি কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে। এই নিয়মের অধীনে যেকোনো আন্তর্জাতিক কর্মী স্থানীয় কাজের বাজারে প্রবেশ করলে তিনি পে-স্কেল অনুযায়ী সমান বেতন পাবেন।
অতীতে অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী বা এজেন্সির খপ্পরে পড়ে প্রবাসীরা কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হতেন। কিন্তু বর্তমান আইনি কাঠামোর কারণে ওভারটাইম বোনাস, বার্ষিক ছুটি এবং স্বাস্থ্য বীমার মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো সরাসরি কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বাধ্যতামূলক।
অর্থনৈতিক সুরক্ষার পাশাপাশি ইউরোপের এই শ্রমবাজারে টিকিয়া থাকার লড়াইটা কিন্তু বেশ কঠিন। বর্তমানে পূর্ব ইউরোপে কাজের সুযোগ পাওয়ার পর অনেকেই যে সমস্যায় পড়েন, তা হলো ভাষাগত বাধা। স্থানীয় ভাষা না জেনে কাজের স্থানে যোগাযোগ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
হাঙ্গেরি বা রোমানিয়ার মতো দেশগুলোতে দৈনিক কাজের নির্দেশনা বোঝা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য মৌলিক ভাষা জানা জরুরি। অনেক কর্মী কাজের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভাষার অজ্ঞতার কারণে চুক্তি শেষে আর নবায়ন পান না। ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে ইউরোপে গিয়েও মেয়াদ শেষে খালি হাতে ফিরতে হয়।
কনট্র্যাক্ট পিরিয়ড বা প্রাথমিক চুক্তির মেয়াদে কর্মী কেমন পারফর্ম করছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী ভিসা এক্সটেনশন নির্ভর করে। নিয়োগকর্তারা এখন কেবল কাজের আউটপুট দেখেন না, বরং কর্মী স্থানীয় সংস্কৃতি ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারছেন তাও বিবেচনা করেন।
দক্ষতার ঘাটতি থাকলে বা কাজের গুণগত মান সঠিক না হলে প্রতিষ্ঠান সরাসরি চুক্তি বাতিল করে দেয়। তাই ইউরোপ যাত্রার আগেই সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা এবং কাজের মৌলিক ট্রেইনিং নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
যারা সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন, তাঁদের জন্য রোমানিয়া ও হাঙ্গেরি হতে পারে ইউরোপের স্থায়ী বসবাসের প্রথম ধাপ। সমপরিমাণ আয় ও ভালো কর্মপরিবেশ পাওয়ার কারণে প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সঞ্চয় করতে পারছেন।
প্রবাস গমনপ্রত্যাশীদের উচিত শুধু ভিসার পেছনে না ছুটে নিজেকে দক্ষ করে তোলা। ভাষার দক্ষতা এবং কাজের নিখুঁত কৌশল জানা থাকলে পূর্ব ইউরোপের এই নতুন শ্রমবাজার প্রবাসীদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।











