নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ

ইউরোপে কেয়ারগিভারদের পরিবার আনার ফাস্ট-ট্র্যাক সুবিধা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য চালু হওয়া ইউরোপে কেয়ারগিভারদের পরিবার আনার ফাস্ট-ট্র্যাক সুবিধা এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এই কাঠামোর অধীনে হেলথসেক্টরে কর্মরত নার্স ও কেয়ারগিভাররা আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে তাঁদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের ইউরোপে আনার অভিবাসন অনুমতি পাবেন। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাস্ট-ট্র্যাক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাষার একটি কঠিন শর্ত, যা অনেক প্রবাসীর জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউরোপজুড়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাতে তীব্র কর্মী সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি দেশ নার্স ও কেয়ারগিভার নিয়োগে বড় উদ্যোগ নিয়েছে। এই খাতের কর্মীদের ধরে রাখতে এবং নতুন দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করতে ফ্যামিলি ভিসার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। আগে যেখানে স্বজনদের ইউরোপে আনতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেই প্রক্রিয়া কয়েক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এই ফাস্ট-ট্র্যাক প্রক্রিয়ার ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের পরিবারকে সাথে রেখে নিশ্চিন্তে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। পরিবার সাথে থাকলে কর্মস্থলে মনোযোগী হওয়া সহজ হয় এবং মানসিকভাবে কর্মীরা বেশ ভালো থাকেন। ফলে ইউরোপমুখী প্রবাসী স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

সুযোগ বড় হলেও এর পেছনের শর্তটি এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। ফ্যামিলি ভিসার দ্রুত অনুমোদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা। ইউরোপে কেয়ারগিভারদের পরিবার আনার ফাস্ট-ট্র্যাক সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারী বা তাঁর স্বজনকে বি১ অথবা বি২ লেভেলের ল্যাঙ্গুয়েজ ডিপ্লোমা অর্জন করতে হবে।

যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ল্যাঙ্গুয়েজ সার্টিফিকেট জমা দিতে ব্যর্থ হবেন, তাঁদের ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিং ফাইল সাথে সাথেই আটকে দেওয়া হবে। ফলে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও বৈধ চাকরি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভাষাগত দক্ষতার অভাবে পরিবার আনার স্বপ্ন থমকে যেতে পারে।

ইউরোপের কর্মক্ষেত্রগুলোতে ইংরেজির প্রচলন থাকলেও স্থানীয় ভাষা শেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিশেষ করে জার্মানি, ইতালি, বা ফ্রান্সের মতো দেশগুলোতে বি১ বা বি২ মানের ভাষা ডিপ্লোমা অর্জন করা বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। কাজের নির্ধারিত ডিউটি শেষ করে প্রতিদিন ভাষা শেখার ক্লাসে যোগ দেওয়া প্রবাসীদের জন্য বাড়তি মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে স্বাস্থ্যখাতে ক্যারিয়ার গড়তে চাওয়া বাংলাদেশিসহ প্রবাসী কর্মীদের শুরু থেকেই ভাষার ওপর জোর দিতে হবে। দেশ ছাড়ার আগেই প্রাথমিক ধাপের ভাষা শিখে রাখা এবং ইউরোপে পৌঁছানোর পরপরই উচ্চতর ডিপ্লোমার প্রস্তুতি শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইউরোপে স্বাস্থ্যখাতের এই নতুন নীতি নিঃসন্দেহে প্রবাসী কেয়ারগিভার ও নার্সদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তবে প্রবাসীদের মনে রাখতে হবে, কেবল চাকুরির চুক্তিপত্রই পরিবার আনার জন্য যথেষ্ট নয়। ফাস্ট-ট্র্যাক প্রক্রিয়ার পূর্ণ সুবিধা উপভোগ করতে ভাষা শেখাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আগাতে হবে।

শর্তপূরণে ব্যর্থ হলে একদিকে যেমন সময়ের অপচয় হবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে পরিবার থেকে দূরে থাকার বিড়ম্বনা সইতে হবে। তাই আন্তর্জাতিক সুযোগের সাথে মানানসই দক্ষতা অর্জনই হবে ইউরোপের মাটিতে স্থায়ী হওয়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *