ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘট

রোম: ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে দেশটির প্রধান শহরগুলোতে সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শ্রমিক ও শিক্ষার্থী। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর রোম, মিলান, বোলোনিয়া, জেনোয়া, নেপলস ও তুরিন শহরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
ইতালির তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন ইউএসবি ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা এই সাধারণ ধর্মঘটে ট্রাকচালক, ট্যাক্সিচালক, কৃষক, শিক্ষক ও সাধারণ কর্মীরা অংশ নেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলো তীব্র আর্থিক চাপে পড়েছে। ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ প্রবাসী গন্তব্য হওয়ায় ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীরাও এই ব্যয় বৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছেন।
রাজধানী রোমের কেন্দ্রীয় তেরমিনি রেলস্টেশন থেকে হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে কলোসিয়াম ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে দিয়ে অগ্রসর হন। রোমের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বিয়াত্রিচে চিলেল্লি জানান, উচ্চ টিউশন ফি এবং বাড়িভাড়ার চাপে শিক্ষার্থীরা দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছেন। রোমে বর্তমানে একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি সাধারণ সিঙ্গেল রুমের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২০০ ইউরো পর্যন্ত ঠেকেছে। এ ছাড়া ইউরোপে প্রবাসী কর্মীদের রেসিডেন্স ও কাজের সুযোগ বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
মিলান ও তুরিন শহরেও কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে বড় মিছিল বের করা হয়। তুরিনে মিছিলের শুরুতে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের মৃদু ধাক্কাধাক্কি হলেও বড় কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ওএসএ ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র লরা তেরেসি জানান, শিক্ষায় বাজেট সংকোচন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন ও কৃষি খাতের কর্মীদের স্বস্তি দিতে ইতালি সরকার এরই মধ্যে ১৭ কোটি ৫২ লাখ ইউরো বা প্রায় ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। ট্রাকচালক, কৃষক ও মৎস্যজীবীরা সরকারি এই তহবিলের আওতায় সরাসরি জ্বালানি ও পরিবহন ভর্তুকি পাবেন।
পাশাপাশি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার ২০২৭ অর্থবছরের খসড়া বাজেটে তরুণ কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য নতুন আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব রেখেছে। খসড়া বাজেট অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী কর্মীদের জন্য বছরে ২ হাজার ৫০০ ইউরোর বিশেষ বোনাস দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বুধবার, ২৮ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানান, যেসব তরুণ মনে করেন রাষ্ট্র তাঁদের কথা ভাবছে না, এই বাজেট প্রস্তাব তাঁদের জন্য ইতিবাচক সমাধান নিয়ে আসবে। তবে গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মিলানে সংঘর্ষের পর জনসমাবেশের আইন কঠোর করেছে দেশটির সরকার। ইতালিতে অবস্থানরত প্রবাসী কর্মী ও শিক্ষার্থীদের যেকোনো কর্মসূচি এড়িয়ে বৈধ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।











