যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: বিমানভাড়ায় বড় চাপ

ওয়াশিংটন: জ্বালানি তেল, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীদের প্রধান উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে ৮৪ শতাংশ ভোটার অর্থনীতি নিয়ে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
আগামী মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে, দেশের ৮৪ শতাংশ ভোটার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিকে তাঁদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েক লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারও এই মূল্যস্ফীতির সরাসরি প্রভাব মোকাবিলা করছে।
ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের ৪৩ বছর বয়সী স্বাস্থ্যকর্মী কাইলার ডগারটি জানান, খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে গণপরিবহন ও গাড়ির জ্বালানি পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেখানে মাসিক খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। এ ছাড়া প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির জীবনযাপন ও শিক্ষা উদ্যোগ বিষয়েও পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম লাফিয়ে বেড়েছে। কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবহন খাত ও প্রবাসী কর্মীদের দৈনন্দিন আয়ের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের বিমানভাড়াও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ফ্লোরিডার ৬৩ বছর বয়সী আইনজীবী ম্যাথিউ মুর জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ পণ্য ট্রাকে পরিবহন করা হয় বলে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম একযোগে বেড়েছে।
ম্যাথিউ মুর আরও জানান, আসন্ন বড়দিনের ছুটিতে বাড়ি ফেরার বিমানের টিকিটের দাম ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিমানভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতকারী প্রবাসী এবং এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে ভ্রমণকারী শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আবাসন ভাড়া, স্বাস্থ্যবিমা, ওষুধ এবং পরিবহন খাতের এই বাড়তি খরচের কারণে প্রবাসীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকোচন করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, নিত্যপণ্য ও বিমানভাড়া বৃদ্ধির কারণে পরিবার নিয়ে দেশে ছুটিতে যাওয়া এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের পর নতুন অর্থনৈতিক নীতিতে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করছেন প্রবাসীরা।











