ইউকেতে ট্যাক্সি চালক ও স্বনিযুক্ত প্রবাসীদের মেকিং ট্যাক্স ডিজিটাল নির্দেশ

যুক্তরাজ্যের মহামান্য রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ (HMRC) দেশের কর কাঠামো আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মেকিং ট্যাক্স ডিজিটাল নিয়ম চালুর চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে লন্ডনে স্বনিয়োজিত ব্যবসা, ট্যাক্সি ড্রাইভিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত কয়েক হাজার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি পেশাজীবীকে এখন থেকে সব ধরনের আর্থিক হিসাব অনুমোদিত ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সনাতন পদ্ধতিতে অথবা কাগজ-কলমে আয়করের হিসাব রাখার যে চর্চা চালু ছিল, এই আদেশের পর তা পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। বছরের শেষে একবার রিটার্ন জমা দেওয়ার বদলে এখন থেকে প্রতি প্রান্তিকে বা তিন মাস পর পর ডিজিটাল মাধ্যমে আয়ের হিসাব হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত নন এমন বয়োবৃদ্ধ ও মাঝারি আয়ের প্রবাসীদের মাঝে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ট্যাক্সি চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এখনো স্থানীয় অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা সহকারীদের ওপর সরাসরি নির্ভর করে কর পরিশোধ করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ায় অনেক স্বনিযুক্ত প্রবাসী আইনি জটিলতা ও জরিমানা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। নির্ধারিত অ্যাপ বা সফটওয়্যার ব্যবহারে ভুল হলে রাজস্ব বিভাগ থেকে সরাসরি জরিমানা বা নোটিশ আসার ঝুঁকি রয়ে যায়।
লন্ডন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রবাসী সামাজিক সংগঠনগুলো এই সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাঙালি হিসাববিদ বা অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সমন্বয়ে বিনামূল্যে টিউটোরিয়াল ও তথ্যবহুল কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে সহজ ভাষায় সাধারণ প্রবাসীদের সরকারি সফটওয়্যার ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো যায়।
রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও ইনকাম ট্যাক্স ফাইলিংয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সংস্কার আনা হয়েছে। কাগজপত্রের হিসেব হারিয়ে যাওয়া কিংবা ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি রোধে মেকিং ট্যাক্স ডিজিটাল ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি যাতে আইনি জটিলতায় না পড়ে, সেজন্য বাংলা ভাষায় দিকনির্দেশনা মূলক লিফলেট প্রচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসা সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ। ডিজিটাল ব্যবস্থার সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারলে প্রবাসীদের করসংক্রান্ত নানা ঝক্কি দীর্ঘমেয়াদে কমে আসবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।











