সৌদি প্রবাসী গৃহকর্মী ও চালকদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমার নির্দেশ

সৌদি আরবে কর্মরত গৃহকর্মী, ব্যক্তিগত রাঁধুনী ও পারিবারিক চালকদের জন্য চিকিৎসা বিমা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। কো-অপারেটিভ হেলথ ইন্স্যুরেন্স কাউন্সিল সম্প্রতি গৃহস্থালি ও পারিবারিক খাতে কর্মরত কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার আওতায় আনতে এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।
নতুন জারি করা এই বিধিমালা অনুযায়ী, প্রবাসী এসব কর্মীদের অনুকূলে নিয়োগকর্তাকে নিজ খরচে অনুমোদিত বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাস্থ্য পলিসি কিনে দিতে হবে। নির্দিষ্ট এই স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কোনো কর্মীর আকামা বা আবাসন অনুমতিপত্র নবায়ন করা সম্ভব হবে না। এতদিন বাণিজ্যিক ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য এই সুবিধা বাধ্যতামূলক থাকলেও গৃহস্থালি কাজ করা প্রবাসীরা এই ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন।
সৌদি সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে ব্যক্তিগত খাতে কর্মরত লাখ লাখ বিদেশি শ্রমিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যাবে। এখন থেকে গৃহকর্মী (আমেল মানজিলি) ও ব্যক্তিগত চালকদের (সায়েক খাস) বিমা করার পুরো দায়িত্ব থাকবে নিয়োগকর্তার কাঁধে।
নিয়ম অনুযায়ী বিমা পলিসি সচল না থাকলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিস্টেমে ইকামার আবেদন আটকে যাবে। কোনো নিয়োগকর্তা নিয়ম অমান্য করলে তাকে বড় অঙ্কের প্রশাসনিক জরিমানা গুনতে হতে পারে। বিমার আওতাভুক্ত কর্মীরা জরুরি চিকিৎসা, সাধারণ ডাক্তারের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ফ্রি ওষুধ পাওয়ার যোগ্য হবেন।
সৌদি আরবে বর্তমানে অবস্থানরত প্রায় ত্রিশ লাখ বাংলাদেশির বড় একটি অংশ গৃহকর্মী, ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও বাসাবাড়ির বিভিন্ন সেবামূলক কাজে নিয়োজিত। পূর্বে হাসপাতালে চিকিৎসার বড় অঙ্কের খরচ নিজেদের পকেট থেকে চালাতে গিয়ে অধিকাংশ প্রবাসী সঞ্চয় শূন্য হয়ে পড়তেন, কিংবা অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা পেতেন না।
প্রবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা বাড়বে। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর মানসিক দুশ্চিন্তা থেকেও তারা মুক্তি পাবেন। এছাড়া কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে এই আদেশ একটি যুগের সাথে তাল মেলানো পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।











