কুয়েতে বন্ধুকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড

কুয়েতে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নিজ বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে আদালত মঙ্গলবার ওই রায় দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়।
আদালতের নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী দুজনই কুয়েতে প্রবাসী এবং তারা পরস্পরের পরিচিত বন্ধু ছিলেন। তাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ ও টানাপোড়েন চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে আসামি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নিজ বন্ধুকে হত্যার ছক কষেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন। মামলা তদন্তকারী কুপোলিশ বাহিনীর সংগৃহীত প্রমাণাদি ও সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে পূর্বপরিকল্পিত খুনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং কঠোরতম এই সাজা ঘোষণা করেন।
কুয়েতের আইনি কাঠামো অত্যন্ত কঠোর, বিশেষ করে হত্যা ও গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দেশটির বিচারব্যবস্থা কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করে না। স্থানীয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ঘটনার পর পরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করে। মামলার শুনানি চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও তথ্যসূত্র উপস্থাপন করা হয়। আদালত সমস্ত নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকের একটি বিশাল অংশ বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর মূল চালিকাশক্তি হলেও সেখানে ঘটে যাওয়া যেকোনো অপরাধপ্রবণতা পুরো প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিচারব্যবস্থার এমন কঠোর অবস্থান প্রবাসীদের স্থানীয় আইনকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার তাগিদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।











