নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রবাসীর গল্প

এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী মেধা কাজে লাগাবে বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারের লক্ষ্য, প্রবাসীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী করা।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদেশে দক্ষ বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মেধাপাচারের পরিবর্তে ‘মেধার আবর্তন’ বা ব্রেন সার্কুলেশন গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের যুক্ত করতে চায় সরকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাসসকে জানান, বিদেশে উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন বাংলাদেশি পেশাজীবীদের বিনিয়োগ, গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলিকন ভ্যালি থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি পেশাজীবী ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন।

তবে সরকারের পরিকল্পনা শুধু স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে অবস্থান করেও বিনিয়োগ, যৌথ গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ। এতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনের সঙ্গে দেশের সংযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালিসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রযুক্তি উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনশিল্প ও ডিজিটাল অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার ক্ষেত্রেও এসব খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে এআই, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উৎপাদনের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করার অঙ্গীকার রয়েছে। প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ও এআই খাতে দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট তৈরিতে আট লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগ, গবেষণা সহযোগিতা, বিশেষায়িত অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী মেধা কাজে লাগাবে বাংলাদেশ

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে সৌদিতে প্রাণ

এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী মেধা কাজে লাগাবে বাংলাদেশ

সৌদি আরবে সাড়ে ৯ হাজার অবৈধ অভিবাসী

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *