সৌদি আরবে সাড়ে ৯ হাজার অবৈধ অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অপরাধে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৯ হাজার ৫৮৯ জন অবৈধ অভিবাসী নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৮ নভেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এই খবর প্রকাশ করে।
মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে স্থানীয় যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে এই সাঁড়াসি অভিযান চালায়। সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি আকস্মিক তল্লাশি চালিয়ে হাজার হাজার আইন লঙ্ঘনকারীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সপ্তাহব্যাপী এই অভিযানে যৌথ বাহিনীর হাতে মোট ১১ হাজার ৫৮৭ জন আটক হন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৩ জনের বিরুদ্ধে আকামা বা আবাসন আইন ভঙ্গের প্রমাণ মিলেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন অমান্য করায় আটক হয়েছেন ৩ হাজার ১৯১ জন। এ ছাড়া দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অমান্য করে বিভিন্ন কর্মস্থলে নিয়োজিত থাকায় আরও ২ হাজার ৩৫৩ জনকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
মরু সীমান্ত দিয়ে বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪৭২ জন। বেআইনি প্রবেশে সহায়তার অপরাধেও কয়েক ডজন স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিককে আইনের আওতায় এনেছে দেশটির প্রশাসন। যৌথ নিরাপত্তা দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা বা সরাসরি অপরাধের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নিজ দেশে পাঠাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নিয়োজিত রয়েছেন। কঠোর প্রশাসনিক অভিযান ও নিয়মিত ধড়পাকড়ের কারণে সেখানে বসবাসরত বহু প্রবাসী এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিন কাটাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা বা কফিলের গাফিলতির কারণে সঠিক সময়ে আকামা নবায়ন না হওয়া, কফিল থেকে পালিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করা কিংবা ফ্রিল্যান্সিং ভিসার নামে বেআইনি কাজে যুক্ত থাকার কারণে সাধারণ প্রবাসীরাও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
রিয়াদ ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তা টহল বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। বৈধ পাসপোর্ট, কাজের সঠিক সনদ এবং বৈধ আকামা না থাকলে যেকোনো মুহূর্তেই আটক কিংবা দেশে ফেরত পাঠানোর সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বা যাতায়াতে সহায়তা করাও সৌদি আইনে বড় ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ও শ্রম বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো সৌদি আরবে অবস্থানরত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যেন সব সময় নিজেদের বৈধ কাগজপত্র সাথে রাখেন এবং স্থানীয় আইন কঠোরভাবে মেনে চলেন।








