নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রিয় বাংলাদেশ

১৭ দেশের প্রবাসীদের জন্য ৩০ হাজার এনআইডি পাঠাল ইসি

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী ভোটারদের বিতরণের উদ্দেশ্যে ১৭টি দেশের বাংলাদেশ মিশনে ৩০ হাজার ১৮৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাপিয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০২৩ সালের ১৮ মে থেকে ২০২৬ সালের ২ নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইতালি ও কুয়েতসহ মোট ১৭টি দেশের বিভিন্ন মিশনে এসব কার্ড ধাপে ধাপে পাঠানো হয়।

ইসির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রবাসী ভোটারদের এ এনআইডি সংক্রান্ত তথ্য উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার এবং নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয় কমিশন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরাসরি বিদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনগুলোতে বায়োমেট্রিক গ্রহণ ও আবেদনের সুযোগ তৈরি করা হয়। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ও কার্ড মুদ্রণ শেষে কূটনৈতিক ব্যাগযোগে মিশনগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম পরবর্তীতে অন্যান্য দেশে সম্প্রসারিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করায় সেখানে চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। এর ফলে সৌদি আরব, কুয়েত এবং আমিরাতের মতো দেশগুলোতে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম গতি পায়। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও একইভাবে আবেদনকারীদের তালিকা ধরে প্রস্তুত করা এনআইডি কার্ড সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসে আবেদন জমা পড়ার পর ঢাকার এনআইডি অনুবিভাগে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। আবেদনকারীর তথ্য সঠিক থাকলে স্থানীয় থানা বা ভোটার তালিকা অফিসের সুপারিশের ভিত্তিতে কার্ড প্রিন্ট করা হয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় মিশনগুলোতে ডাক দেওয়া হয়, যেন প্রবাসীরা সহজেই নিজ নিজ মিশন থেকে তা সংগ্রহ করতে পারেন।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য এনআইডি প্রাপ্তি শুধু একটি কার্ড পাওয়ার বিষয় নয়, এটি তাদের দেশে থাকা নানা আইনি ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া সহজ করে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রদান এবং পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের এতদিন নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। প্রবাসীদের এনআইডি পাওয়ার পর থেকে এসব কাজ বহুগুণ সহজ হয়ে গেছে।

এর পাশাপাশি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের যে দীর্ঘদিনের দাবি প্রবাসীদের ছিল, তা বাস্তবায়নে এটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির পর হাতে ভোটার আইডি কার্ড পৌঁছানোয় প্রবাসীদের পরিচয় সংকট যেমন কাটছে, তেমনই ডিজিটাল সুবিধাগুলোও সরাসরি ভোগ করা সম্ভব হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবশিষ্ট প্রবাসীদের প্রাপ্ত আবেদনগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির কাজ চলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *