এইচএসসি পাসে জার্মানির আউসবিল্ডিং প্রোগ্রামে পেইড ট্রেইনিং

জার্মানিতে প্রথাগত বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ‘আউসবিল্ডিং’ প্রোগ্রামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির নার্সিং, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সাপোর্ট এবং হোটেল ম্যানেজমেন্টের মতো চাহিদা সম্পন্ন খাতে এইচএসসি উত্তীর্ণ তরুণেরা কোনো টিউশন ফি ছাড়াই এ পেইড ভোকেশনাল ট্রেইনিংয়ে যুক্ত হতে পারছেন।
জার্মানির দ্বি-মুখী শিক্ষা ব্যবস্থার (Dual Education System) অংশ হিসেবে পরিচিত এই আউসবিল্ডিং প্রোগ্রামে শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকে। প্রশিক্ষণের পুরোটা সময় জুড়েই শিক্ষানবিশের কাজ করার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো থেকে মিলছে আকর্ষণীয় আর্থিক ভাতা। বর্তমানে এই ট্রেইনিংয়ে যুক্ত শিক্ষার্থীরা মাসে গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা) পর্যন্ত স্টাইপেন্ড পাচ্ছেন। ফলে নিজ খরচে থাকার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া সহজ হয়ে উঠছে।
সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় কোর্সের তুলনায় এই ভোকেশনাল ব্যবস্থার প্রধান সুবিধা হলো অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সরাসরি ব্যবহারিক দক্ষতা। তবে এই সুযোগ নিতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জার্মান ভাষার ওপর দক্ষতা অর্জন।
কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রের প্রধান ভাষা জার্মান হওয়ায় আবেদনকারীকে অবশ্যই জার্মান ভাষার বি-১ (B1) লেভেলের দক্ষতা অর্জন করতে হয়। ভাষা পারদর্শিতার সনদ থাকলে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী এই অর্থনীতির দেশে সরাসরি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
জার্মানিতে বিভিন্ন শিল্প খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ করতে সরকার বিদেশি তরুণদের এই কারিগরি প্রশিক্ষণে বিশেষভাবে উৎসাহিত করছে। আউসবিল্ডিং সম্পন্ন করার পর ট্রেইনিদের পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতেই টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ মেলে, যা স্থায়ী আবাসন পেতে সহায়তা করে।
জার্মানির বর্তমান অভিবাসন আইন অনুযায়ী, এই ভোকেশনাল ট্রেইনিং এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে সফলভাবে কাজ করার পর বি-১ লেভেলের ভাষা দক্ষতাসম্পন্ন তরুণেরা সরাসরি পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনের অধিকার পান। ফলে সাধারণ উচ্চশিক্ষার চেয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য।











