নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার #সৌদি আরব

এক সপ্তাহে ১০ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ বসবাসের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে প্রবাসী ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় এক সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার যৌথ অভিযানে এক সপ্তাহের মধ্যেই হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আটক করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অঞ্চলে নিয়মিত যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন বজায় রাখতে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে।

গত ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানো এক সপ্তাহের অভিযানে মোট ১১ হাজার ৮১৯ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে আকামা মেয়াদোত্তীর্ণ বা অবৈধ বসবাসের দায়ে ৫ হাজার ৭৯৩ জন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা সীমান্ত আইন ভঙ্গে ৩ হাজার ৩০৭ জন এবং কাজের অনুমতি ছাড়া শ্রম আইন ভঙ্গের দায়ে ২ হাজার ৭১৯ জনকে আটক করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আটককৃতদের মধ্যে যাদের অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে, তাদের আইনি নথি ও ভ্রমণ টিকেট প্রস্তুত করে দ্রুত নিজ দেশে পাঠাবে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে হাজার হাজার প্রবাসীর বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি প্রবাসীদের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদের মধ্যে অধিকাংশকেই দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে জরুরি ভ্রমণ নথি (আউটপাস) তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৯ হাজার ৯১৬ জন প্রবাসীকে তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যেসব প্রবাসী নিজ নিজ কাজের নির্ধারিত কফিল বা কোম্পানির বাইরে কাজ করছেন বা আকামার মেয়াদ বাড়াননি, তারাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। সৌদি আরবে প্রবাসী ফেরত পাঠানোর এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সৌদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা চালানো ব্যক্তি এবং তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও চরম হুঁশিয়ারি জারি করেছে দেশটির সরকার। কেবল অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা এসব প্রবাসীদের বাসস্থান, পরিবহন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা।

সৌদি আইন অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তা করলে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ রিয়াল জরিমানা হতে পারে। এছাড়া সহায়তাকারীর ব্যবহৃত যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে।

সৌদি আরব সরকার সকল প্রবাসীকে আকামা, শ্রম ও সীমান্ত আইন কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যথায় গ্রেফতার ও দেশে ফেরতের পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

মূলত তিনটি প্রধান আইন ভঙ্গের কারণে প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে—আবাসন আইন (আকামা না থাকা বা মেয়াদ শেষ হওয়া), শ্রম আইন (কফিলের বাইরে বা অবৈধ কাজ করা) এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন (অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করা)।

গ্রেফতার ও ডিপোর্টেশন এড়াতে প্রবাসীদের অনতিব্লিমে নিজ নিজ নিয়োগকর্তা বা কফিলের মাধ্যমে আকামা নবায়ন করে নিতে হবে। আকামা নবায়ন না থাকলে যেকোনো সময় অভিযানে গ্রেফতারের ঝুঁকি থাকে।অবৈধভাবে বসবাসকারী বা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়, পরিবহন বা চাকরি দিলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং সহায়তাকারীর গাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

এক সপ্তাহে ১০ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিবার নিয়ে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *